আলমগীর হোসেন,দাউদকান্দি।।
দাউদকান্দি
উপজেলার বিশিষ্ট সংগঠক স্বেচ্ছাসেবী, সমাজকর্মী, কবি ও কলামিস্ট মো. আলী
আশরাফ খান আর নেই ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ২১
ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ৮ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি
স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার
বাদ যোহর গৌরীপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে নিজ গ্রামের বাড়ি আমিরাবাদে বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে
পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় মানুষের ঢল নেমে আসে। চোখে ছিল
অশ্রু, কণ্ঠে ছিল দোয়া।
মো.আলী আশরাফ খান ছিলেন ‘নিরাপদ চিকিৎসা চাই,
কুমিল্লা জেলা কমিটি’র সভাপতি। নিরাপদ ও মানবিক চিকিৎসাসেবার দাবিতে তিনি
ছিলেন দৃঢ় ও সোচ্চার। পাশাপাশি তিনি ছিলেন সৃষ্টি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সমাজ
কল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার
মেলবন্ধনে সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। জাতীয় সামাজিক সংগঠন নিরাপদ সড়ক
চাই (নিসচা) দাউদকান্দি উপজেলা শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন তিনি।
নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে তিনি দুই যুগ ধরে কাজ করে গেছেন।
এর বাইরেও দেশের
বিভিন্ন উপজেলার একাধিক মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে
যুক্ত ছিলেন তিনি। কেবল নামেই নয়, সরাসরি মাঠে থেকে তিনি অসহায়, দরিদ্র ও
দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানবিক কাজের সময় তাঁকে কখনো সামনে আসতে
দেখা যায়নি, নীরবে কাজ করাটাই ছিল তাঁর স্বভাব।
একই সঙ্গে তিনি ছিলেন
একজন সচেতন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় তাঁর
কবিতা, কলাম ও সমাজভিত্তিক লেখালেখি পাঠকমহলে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি মানবতা, ন্যায়বোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা
ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরতেন। তিনি দাউদকান্দি প্রেস ক্লাবের সাহিত্য বিষয়ক
সম্পাদক ছিলেন।
তাঁর হাত ধরে গৌরীপুরসহ কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে
উঠেছে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ও মানবিক কর্মী। আজ সেই প্রেরণাদাতা
মানুষটিকে বিদায় জানাতে এসে অনেকেই আবেগ সামলাতে পারেননি। চোখের জলেই
প্রকাশ পেয়েছে একজন পথপ্রদর্শক হারানোর বেদনা।
মো. আলী আশরাফ খানের
মৃত্যুর খবরে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত পরিচিতজন, শুভানুধ্যায়ী ও নেটিজিনরা
গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করে অসংখ্য
আবেগঘন ও শোকবার্তা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর মানবিক কাজ, বিনয়ী আচরণ ও নিরলস
সমাজসেবার কথা উঠে আসে বারবার।
জানাজায় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি,
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের
প্রতি সমবেদনা জানান।
পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।
রেখে গেছেন শতবর্ষী মা, স্ত্রী ও তিন পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন এবং অগণিত
গুণগ্রাহী। তাঁর প্রয়াণে দাউদকান্দি, হোমনা, তিতাস ও আশপাশের এলাকায় নেমে
এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
মানুষ চলে যায়, কিন্তু কিছু মানুষ রেখে যান আলোর পথ। মো. আলী আশরাফ খান তেমনই একজন মানুষ।
