
দ্রুত
কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন প্রথম প্রায়োরিটিতে থাকবে জানিয়ে কৃষি, খাদ্য
এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন বলেছেন, যে কয়দিন
মন্ত্রী হিসেবে থাকবো- আমার দুটি জিনিস প্রায়োরিটিতে থাকবে। এর মধ্যে এক
নম্বরে রয়েছে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করা। দ্বিতীয়ত গোমতী নদীর মাটি কাটা
বন্ধ করা।
গতকাল শুক্রবার কুমিল্লা সার্কিট হাউসে তিনটি মন্ত্রণালয়ের
বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ
কথা বলে আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষি জমির উর্বরতা রক্ষায়
গোমতী নদীর চর থেকে মাটি কাটা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ
থেকে গোমতীর এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে কাটতে দেওয়া হবে না। এভাবে অবাধে গোমতীর
মাটি কেটে নেওয়া অত্যন্তত দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক এবং লজ্জাস্কর। এখানে
প্রশাসনের লোকজন আছেন- আমি আশা করবো আজকের পর থেকে গোমতী থেকে এক ইঞ্চি
মাটিও কেউ কাটতে পারবে না।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণের জন্য কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
এর
আগে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন
বলেছেন, এদেশের ৭০ ভাগ মানুষ কৃষির সাথে জড়িত। কৃষি উন্নত হলে এদেশের ৭০
ভাগ মানুষের মেরুদন্ড শক্ত হবে। ৭০ ভাগ মানুষের মেরুদণ্ড শক্তিশালী হলেই
দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
শুক্রবার কুমিল্লা সার্কিট হাউসে তিনটি
মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির
বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমিন উর রশিদ বলেন, এই সরকার জনগণকে কথা
দিয়েছে। জনগণ বিশ্বাস করে এই সরকার আগামী দিনে দেশ এবং জাতির কল্যাণে কাজ
করবে। এই সরকারের বিভিন্ন কর্মসুচি খেটে খাওয়া মানুষ এবং কৃষকদের অনেক
উপকারে আসবে। বিশেষ করে কৃষির উন্নয়নে এ সরকার ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
এ
সময় তিনি বলেন, কৃষি জমিতে হেভি মেটালের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উর্বরতা কমছে
এবং খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার পরিকল্পনা
গ্রহণ করেছে।
সভায় জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ
অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো:
আব্দুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, পরিচালক
শামসুল আলম, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিচালক এস এম
কায়সার আলী এবং অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
মন্ত্রী
আমিন উর রশিদবলেন, সরকারের নীতিগুলো কেবল কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না, এর
সুফল কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, এখন দরকার মাঠ পর্যায়ে
আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা। আপনারা আন্তরিক হলে প্রান্তিক কৃষকের ভাগ্যবদল
সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বক্তব্যে গত নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির
প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, বিগত নির্বাচনে বিএনপির অধিকাংশ প্রতিশ্রুতিই
ছিল কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়ন নিয়ে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের
৭০ ভাগ মানুষ যে পেশার সঙ্গে জড়িত, সেই পেশার উন্নয়নই প্রকৃত জাতীয়
উন্নয়ন। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে আমাদের কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত
হবেন।
নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্বারোপ করে আমিন-উর রশীদ বলেন, দেশের
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে সুস্থ রাখতে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা
জরুরি। এ ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। তিনি
সংশ্লিষ্ট সকলকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান
জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, ৭০ শতাংশ লোক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে, আর
সরকারও ভালো থাকবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।
