২০২৩
সালের অনার্স ৪র্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সারা
দেশের বিভিন্ন কলেজের অসংখ্য পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক
ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় দায়িত্বরত
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরীক্ষক এবং পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই
সিদ্ধান্তনেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির
সভার সুপারিশ এবং পরে একাডেমিক কাউন্সিলের চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এই শাস্তির আদেশ জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির
তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের অপরাধের ধরন বিবেচনা করে বিভিন্ন
ধারায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর সংশ্লিষ্ট
বছরের পরীক্ষা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থীকে শুধু ওই
বছরের পরীক্ষা বাতিলই নয়, বরং পরবর্তী ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সব ধরনের
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত বা বহিষ্কার করা হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত
শিক্ষার্থীদের তালিকায় দেশের নামকরা সরকারি ও বেসরকারি কলেজের
শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। ময়মনসিংহের সরকারি মুমিনুন্নিসা মহিলা কলেজ, আনন্দ
মোহন কলেজ, টাঙ্গাইলের সরকারি সাদত কলেজ, কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ
এবং চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই শাস্তির আওতায় এসেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে
উল্লেখ করা হয়েছে, বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিলসহ
পরবর্তী এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। আবার গুরুতর অপরাধের দায়ে
কাউকে কাউকে পরবর্তী ৩ বছরের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা
হয়েছে। এরমধ্যে সরকারি সাত কলেজের ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থী এবং পাবনার
ড. জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজের এক পরীক্ষার্থীকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার
করা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার মান এবং
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এমন কঠোর পদক্ষেপ জরুরি ছিল। ভবিষ্যতেও পরীক্ষায়
যেকোনো ধরনের জালিয়াতি বা অসদুপায় রোধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে
বলে জানানো হয়েছে।
