ভাষা
শহীদ রফিক উদ্দিনের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত জাদুঘরে ভাষা আন্দোলনের
ইতিহাস নিয়ে মুর্যালের দাবি করছেন দর্শনার্থীরা। শহীদ রফিকের জন্ম
মানিকগঞ্জের সিংগাইরের পারিল গ্রামে (রফিকনগরে)। এখানেই তার জন্মভিটার পাশে
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে
‘ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’।
২০০৮ সালের ১৫ মে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
জাদুঘরের
একতলা দৃষ্টিনন্দন ভবনের দেয়ালে শহীদ রফিকের ছবি ও সংক্ষিপ্ত জীবনী টানানো
রয়েছে। ভেতরে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও সাহিত্যবিষয়ক নানা বই সাজানোও
আছে। আছে শহীদ রফিকের ব্যবহৃত চেয়ার-টেবিল, লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি।
তবে প্রত্যাশিত স্মৃতিচিহ্নের ঘাটতি রয়েছে- এমন অভিযোগ দর্শনার্থীদের।
তারা
বলছেন, জাদুঘরে নেই ভাষা আন্দোলন নিয়ে তেমন কোনো নথিপত্র বা ভাষা
আন্দোলনের মিছিলে তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার দৃশ্য কিংবা ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার
ঘটনার কোনো দেয়ালচিত্র বা মুর্যাল নেই।
ফলে ইতিহাসের আবেগ ও ত্যাগের গভীরতা অনুভব করার মত উপস্থাপনায় ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
জাদুঘর
দেখতে আসা সিংগাইরের বাইমাইলের কাজী নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র
মোহাম্মদ হাসান বলেন, “ভাষা আন্দোলনের ঘটনাবলি ও শহীদ রফিকের আত্মত্যাগ
তুলে ধরে একটি মুর্যাল নির্মাণ করা হলে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস আরও ভালোভাবে
জানতে পারবে।”
নাঈম নামের আরেক স্কুলছাত্র বলেন, “গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা নিয়ে একটি মুর্যাল হলে আমরা ইতিহাসটা আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারতাম।”
সাভারের
একটি মাদ্রাসার ছাত্র মুয়াজ বলেন, “জীবনে প্রথমবার শহীদ রফিক জাদুঘর দেখতে
আসছি। ভালো লাগছে। ভাষা আন্দোলনের আরো কোনো ছবি বা চিত্র থাকলে ভালো হতো।”
শহীদ
রফিকের ভাইয়ের ছেলে শাহজালাল বাবু বলেন, “বাড়ির উঠোনে শহীদ মিনারের পাশে
একটি মুর্যাল নির্মাণ করা হলে তা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং
দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াবে।”
গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান ফরহাদ খান
বলেন, “শহীদ রফিকের শিক্ষাগত সনদ ও একুশে পদকের অনুলিপি জাদুঘরে সংরক্ষণ
করা গেলে এটি আরও সমৃদ্ধ হবে।”
এতে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্যও জাদুঘরটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।
এ
বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “ভাষা শহীদ
রফিকের স্মৃতি সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও কিছু
পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
