নির্বাচিত হয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর বিএনপিতে যোগ দেয়া আ.লীগ নেতার
নিজস্ব প্রতিবেদক।। কুমিল্লার হোমনায় নির্বাচনের পর একই গ্রামে অনন্ত ২২টি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
নির্বাচনে
জয়ের খবরে প্রতিক্ষের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার
নব্য বিএনপিতে যোগ দেয়া আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তার
সমর্থকের হামলায় অন্তত ২২টি ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনায় পুরুষ শুণ্য হয়ে গেছে ডহর গোপ গ্রাম। এতে আতঙ্কে দিনপার করছেন হামলার শিকার পরিবারের নারী ও শিশুরা।
বৃহস্পতিবার
(১২ ফেব্রুয়ারী) রাত সাড়ে ৮টায় স্থানীয় বিএনপি প্রার্থীর জয়ের খবরে
স্বতন্ত্র তালা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের উপর কামরুজ্জামানের লোকজন এই
হামলা করে বলে জানা যায়। কামরুজ্জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়ার
সমর্থক। এছাড়া তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তবে অভিযোগ
অস্বীকার করে তার বাড়িতেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি প্রার্থীর
সমর্থক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান।
সরেজমিনে জানা যায়, সাবেক
আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান ও তালা প্রতীকের সমর্থকদের বিরোধ দীর্ঘ
দিনের। নির্বাচনের দিন কামরুজ্জামানের লোকজন জাল ভোট দিতে আসলে স্বতন্ত্র
তালা প্রতীকের সমর্থকদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রুপ
নেয়। এসময় তালা প্রতীকের সমর্থক নসু মিয়া, জসিম ও শাহআলম ঘটনাস্থলে আহত
হোন। বিকেলে তালা প্রতীকের সমর্থকরা পাল্টা হামলা করে কামরুজ্জামানের
সমর্থকদের উপর। রাত সাড়ে ৮টায় বিএনপি প্রার্থীর জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে
কামরুজ্জামানের লোকজন স্বতন্ত্র তালা প্রতীকের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা
চালায়। এসময় অন্তত ২২টি ঘরবাড়ি ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। এতে আতঙ্কে পুরুষ
শুণ্য হয়ে গেছে পুরো গ্রাম। নারীরা আতঙ্কে দিনপার করছেন। ডহর গোপ গ্রামের
নাজমা বেগম, সেফালি আক্তার, আইরিন, নুরজাহান, নারগিসসহ অন্তত বিশজন নারী
জানান, রাতের আধারে ডাকাতের মতো আমাদের বাড়িঘরে হামলা করে কামরুজ্জামান,
আমির হোসেন শফিকসহ অর্ধশতাধিক মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িঘরে
হামলা করে। এসময় আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে টাকা পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে
যায়। এসময় নারীদের গায়ে হাত তোলে তারা। অনেক বাচ্চারা ভয়ে অসুস্থ হয়ে
পড়েছে। পুরুষরা সবাই পালিয়ে আছে। আমরা আতঙ্কে দিনরাত পার করছি। আমরা
প্রশাসনের সহায়তা চাই।
অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি
প্রার্থীর সমর্থক কামরুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, তারা নিজেদের বাড়ি নিজেরা
ভেঙে আমাদের দোষ দিচ্ছে। আমি ব্যবসায়ী কাজে অনেকের সাথে চলেছি, আওয়ামী লীগ
করিনি।
হোমনা থানার ওসি মোরশিদ আলম চৌধুরী জানান, হামলা ভাংচুর ও
লুটপাটের বিষয়ে তিনি শুনেছেন কিন্তু লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে স্থানীয়
ভাবে মিমাংসার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো
হলো ডহরগোপের ভোটার ও পাশ্ববর্তী আলীরচরের নসু মিয়া, ডহর গোপের সৃষ্টি
মিয়া, নুর জাহান, মানিক,সেফালী,তাহের, মুক্তিযোদ্ধা সামছুলহক, শাহজালাল,
জসিম, হবি, ফারুক, রিপন, শাহীন, আলাউদ্দিন, রনি, সেলিম, ভুট্টু, নজরুল,
মহিউদ্দিন, মানিক নসু, জুলাস, হানিফ, ইনু, সবুজ , আমির হোসেন ও শফিক,
কামরুজ্জামান। ভাংচুর ও লুটপাটে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা হবে
বলে জানা গেছে।
