শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১ ফাল্গুন ১৪৩২
কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২৬ থেকে ফিরে!
আহমাদ মাযহার
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৩ এএম |


দুই হাজার ছাব্বিশের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় কয়েকদিন কাটিয়ে এলাম। এবারের কলকাতা বইমেলা ছিল তাদের ঊনপঞ্চাশতম আয়োজন। ১৯৭৬ সালে এর শুরু। সে হিসাবে আয়োজন সংখ্যা বেশি হবার কথা হলেও যে হয়নি তার কারণ প্রথম দিকে নানা জটিলতায় বইমেলা হতে পারেনি। আমি প্রথম এই বইমেলায় যাই আশির দশকের শেষভাগে। তখন ময়দানে আয়োজিত হতো। সেসময় একাধিকবার গিয়েছি। বিগত দশকে নতুন স্থানে তো বহুবারই গিয়েছি।
১৯৭৯ সাল থেকে সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমির বইমেলায় যাইনি এমন হয়েছে কমই। এই দুই বইমেলার সুস্পষ্ট পার্থক্য এর আয়োজনের অন্তর্গত উদ্দেশ্যে। শুরু থেকেই কলকাতার বইমেলায় ছিল আন্তর্জাতিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। আর ঢাকার অমর একুশে বইমেলায় ছিল জাতীয় স্মৃতির সংরক্ষণ আকাক্সক্ষা। কলকাতা বইমেলার তুলনায় ঢাকার বাংলা একাডেমির বইমেলাটি কিন্তু প্রবীণতর! সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে এর শুরু। যদিও এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘অমর একুশে বইমেলা’ করা হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। এর সূচনা ছিল অনানুষ্ঠানিক! বাংলা একাডেমির একুশে ফেব্রুয়ারিকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানমালার সাংস্কৃতিকতার আকর্ষণে জড়ো হওয়া মানুষের সঙ্গে জ্ঞান ও সৃষ্টিমূলক বইয়ের সংযোগ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা ছিল এর অন্তর্গত প্রেরণা! ব্যবসা এর মুখ্য বিষয় ছিল না; মুখ্য ছিল জাতির ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক স্মৃতির বার্ষিক নবায়ন। প্রকাশক ও লেখকেরা সম্মিলিতভাবে সামগ্রিক ইতিহাসের এই গৌরবময় স্মৃতি ও সাংস্কৃতিকতার মধ্যে বইয়ের পাঠকদের পাওয়া যেতে পারে এমন ভাবনা থেকে এর উদ্ভব ও বিস্তার! বাঙালির চিরকালীন গ্রাম্য মেলা এর সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার উৎস!
১৯৭৬ সাল থেকেই কলকাতার বইমেলার উদ্যোক্তা প্রকাশক-নির্ভর সংগঠন ‘পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড’। পশ্চিমবঙ্গে একটা উল্লেখযোগ্য পাঠক সমাজ আছে। বড় ছোট অনেক পুস্তক-প্রকাশক আছে। কলকাতা বইমেলার জন্মটা মূলত প্রকাশক ও পাঠকের সরাসরি মিলনমেলা হিসেবে। ইউরোপ-আমেরিকার নানা রকম ‘বুকফেয়ার’ থেকে এই বইমেলার ধারণার উদ্ভব। ওসব দেশের বুকফেয়ারের সঙ্গে, বিশেষত ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হলেও কলকাতার বইমেলা কেবল লেখক-প্রকাশক-এজেন্টের কপিরাইট বিক্রির মেলা ধারণার দিকে থাকেনি। বরং গ্রাম্য মেলার বৈশিষ্ট্যকে অধিগ্রহণ করে অনেকটা জনগণের উৎসব হয়ে উঠেছে।
কলকাতা বইমেলায় রাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। কারণ পুস্তক-প্রকাশক-বিক্রেতারা এর উদ্যোক্তা! এর কেন্দ্র প্রেরণা বাণিজ্য! ফলে পশ্চিমবঙ্গের পুস্তক-প্রকাশককেন্দ্রিক বাণিজ্য ও পাঠসংস্কৃতি একসঙ্গে চলেছে। শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা ছিল এর। যদিও এক অর্থে, কলকাতা বইমেলা জন্মলগ্ন থেকেই বাণিজ্য-আকাঙ্ক্ষী হলেও এক ধরনের নাগরিক সাংস্কৃতিক উদ্যোগ হিসেবে অব্যাহত আছে।
১৯৭২ সালে স্বতঃস্ফূর্ত সাংস্কৃতিকতায় শুরু হলেও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালনায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় ১৯৭৮ সালে। ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ নামে রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি সরাসরি এর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠে। ফলে এটি যুক্ত হয় ভাষা-আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী জাতি-গঠন ও স্মৃতিচর্চার সঙ্গে। বই এখানে কেবল পণ্য থাকে না-হয়ে ওঠে ভাষা, আত্মপরিচয় ও শহীদের স্মরণবাহী মাধ্যম।
সেই সূত্রেই এর চরিত্র রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান-কেন্দ্রিকতার প্রতীক ও স্মৃতিনির্ভর; পুস্তক-প্রকাশনার চেয়ে ‘ভাষা ও জাতিসত্তা’ প্রসঙ্গ মুখ্য হয়ে উঠেছে। শুরুতে উৎসবের চেয়ে শ্রদ্ধা ও আনুষ্ঠানিকতার ওজন বেশি ছিল। ঢাকার বইমেলার জন্ম তাই রাষ্ট্র-সমর্থিত সাংস্কৃতিক স্মৃতির ভিতরে।
এককথায় বললে কলকাতা বইমেলা পাঠক ও প্রকাশকের সম্মিলন থেকে উৎসবে রূপান্তরিত হয়েছে। পক্ষান্তরে ঢাকা বইমেলা জাতির স্মৃতি ও ভাষার শ্রদ্ধা থেকে ক্রমশ রূপান্তরিত হচ্ছে বই-প্রকাশনার মেলায়। এই পার্থক্যই পরবর্তীতে দুটো মেলার আয়োজনের ধরন, পাঠকের ভূমিকা, লেখক-প্রকাশকের অবস্থান, এমনকি ‘বই কেনা ও বই দেখা’র ধরন ও অভ্যাস—সবকিছু আলাদা করে দিয়েছে।
নিয়মিত দুই বইমেলা দেখার অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারি এমনভাবে যে, ঢাকার বইমেলায় মানুষ যায় যতটা না বই কিনতে ও দেখতে, তারচেয়ে বেশি যায় আড্ডা ও বিনোদনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিকতায় অংশগ্রহণের গৌরব নিতে। বই সেখানে গৌণ ব্যাপার। কারণ আমাদের পাঠক সমাজ এত ছোট যে বইমেলার পরিসরেও তাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দেখা যায় না! বই হাতে আছে এমন মানুষের সংখ্যা এখানে খুব কম। কলকাতার বইমেলায় যায় মূলত পাঠক সমাজ; আড্ডা ও মিলিত হওয়া সেখানে প্রাসঙ্গিক ব্যাপার। কলকাতা বইমেলায় যারা যান তাঁদের উদ্দেশ্য বই কেনা; আড্ডা ও মিলিত হওয়ার সুযোগ সেখানে বাড়তি পাওয়া!













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপির জয়জয়কার
উৎসবের ভোট; ব্যাপক উপস্থিতি
ভোটকেন্দ্রে হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণ, ছোটাছুটি
দেবিদ্বারে হাসনাতের বিজয়ে মিছিল ‘ক্ষমতা এখন জনতার হাতে’
‘বিদ্রোহী’ শাওনে ধরাশায়ী রেদোয়ান
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় ১১ টি আসনে ৮৬ প্রার্থীর ভোটের লড়াই
হুমকির বক্তব্য ভাইরালের পর আদালতে বিএনপি নেতা মুন্সী
বিএনপি প্রার্থীর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট যুদ্ধের সম্ভবনা
কুমিল্লায় টাকাসহ বিএনপি ও জামায়াতের ৩ নেতা আটক
ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক কুমিল্লা অংশ ফাঁকা
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২