কুমিল্লায়
শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে
উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। সমাবেশে বক্তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে
হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাদি হত্যার বিচার নিয়ে টালবাহানা করা হলে দেশে আবারও
‘জুলাই বিপ্লবের’ মতো গণঅভ্যুত্থান ঘটবে।
গতকাল শুক্রবার (৬
ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ৩ টায় কুমিল্লার কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে এক বিশাল
বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কান্দিরপাড়ে জমায়েত শেষে একটি বিক্ষোভ
মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কান্দিরপাড় থেকে শুরু করে ঝাউতলা হয়ে পুলিশ
লাইন চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। পরে পুনরায়
কান্দিরপাড়ে এসে বিক্ষোভের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। উক্ত কর্মসূচিতে কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিলাব মঞ্চ ও কুমিল্লা মহানগর এনসিপি-র বিপুল সংখ্যক
নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
সমাবেশে রাশেদুল হাসান
অন্তর্র্বতীকালীন সরকার ও প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "এক হাদিকে
গুলি করে স্তব্ধ করা যাবে না, আজ লক্ষ হাদি রাজপথে নেমে এসেছে। হাদি ভাই
চেয়েছিলেন ৫৬ হাজার বর্গমাইলে ইনসাফ কায়েম করতে, আজ সেই আন্দোলন
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই—আমরা সবাই হাদি।"
তিনি
প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, "এই মেরুদণ্ডহীন পুলিশ প্রশাসনকে
বলতে চাই, যতবার গুলি চালাবেন, ততবার আমরা বুক পেতে দেব। বিচারহীনতার
সংস্কৃতি চলতে থাকলে বাংলাদেশের মাটিতে আবারও রক্তঝরা জুলাই নেমে আসবে।"
বক্তারা
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নিয়ে বলেন, বিচার এবং নির্বাচন দুটি
আলাদা প্রক্রিয়া। বিচার বন্ধ করে নির্বাচনের পথে হাঁটা বাংলার জনগণ মেনে
নেবে না। বক্তারা আরও বলেন, বিচারের দাবিতে অনড়: যদি এই সরকার হাদি হত্যার
বিচার না করে বিদায় নেয়, তবে পরবর্তী যে সরকারই আসুক, এই অন্তর্র্বতীকালীন
সরকারের কাছেও জবাবদিহিতা চাওয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বার্তা:
ক্ষমতার লোভে যারা হাদি হত্যার বিচার নিয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন, তাদের মনে রাখা
উচিত—জুলাই বিপ্লব কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে হয়নি। আবারও অরাজনৈতিক পরিচয়ে
রাজপথ দখল করবে ছাত্র-জনতা। একজন শহীদের স্ত্রী-সন্তানকে যখন বিচারের
দাবিতে রাস্তায় নামতে হয়, তখন তা রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জাজনক।
সমাবেশ
শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই
লড়াই চলবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
