কুমিল্লার
বুড়িচং উপজেলায় ঘুরতে আসা এক প্রেমিককে আটকে রেখে তার প্রেমিকাকে অপহরণ
করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে
থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ
ঘটনায় প্রেমিক আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত চারজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও
দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৩ টার দিকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
পুলিশ
ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শহর থেকে
প্রেমিক আনোয়ার হোসেন (২১) ও তার প্রেমিকা শান্তা আক্তার (১৮) বন্ধু
রাকিবুল হাসানের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে বাকশীমূল ইউনিয়নের খারেরা
ক্যাম্প সংলগ্ন আনন্দপুর হাড়ভাঙা কবিরাজের কাছে যাওয়ার পথে একদল প্রতারক
তাদের গতিরোধ করে। এ সময় প্রতারক চক্রটি প্রেমিক আনোয়ার হোসেনকে মারধর করে
এবং প্রেমিকাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে প্রেমিক আনোয়ার ও
অটোরিকশাচালক রাকিবুল হাসানকে কালিকাপুর-ফকির বাজারগামী মনোহরপুর পাকা
সড়কের মোহনের দোকানের সামনে আটকে রেখে মারধর করে এবং তাদের কাছে থাকা নগদ ৪
হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়।
অপরদিকে,
প্রেমিকাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সীমান্ত এলাকা ঘুরিয়ে শহরের একটি
স্থানে নিয়ে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। একই সঙ্গে টাকা
দিলে প্রেমিক-প্রেমিকাকে বিয়ে পড়িয়ে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেয় তারা। ঘটনার
সময় বিকেলে স্থানীয়রা বিষয়টি বুড়িচং থানায় জানালে এসআই মিজানুর রহমান
সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রেমিক-প্রেমিকাকে উদ্ধার করেন। এ
সময় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করা হয়।রোববার সকালে তাদের
আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,বাকশীমূল
ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে মো. জসিম(৩০),একই এলাকার আঃ
বারেক মিয়ার ছেলে মো. হাবিব(২২),আনন্দপুর পূর্বপাড়ার শাহ-আলমের ছেলে
মো.জাহাঙ্গীর আলম(৪০),জঙ্গলবাড়ির পশ্চিম পাড়ার আঃ মান্নানের ছেলে
মো.সাগর(১৯)।
প্রেমিক আনোয়ার হোসেন লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর বেপারী
বাড়ির মো. আব্দুল রহিমের ছেলে। ভিকটিম শান্তা আক্তার সদর দক্ষিণ উপজেলার
আশ্রাফপুর গ্রামের সোহাগ মিয়ার মেয়ে।অটোরিকশাচালক রাকিবুল হাসান কুমিল্লা
সদর টমছমব্রীজ রামমালা এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে।
পুলিশ জানায়, সময়মতো উদ্ধার না হলে ভিকটিমের সঙ্গে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারত।
এ
বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন,অপহরণের ঘটনায় জড়িত
চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে
জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা
চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
