সংসারের
চাকা ঘোরাতে প্রতিদিন অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন বিল্লাল হোসেন (২৮)।
কিন্তু মঙ্গলবার সেই চাকা থেমে গেছে চিরতরে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার
ধামঘর ইউনিয়নের ভাগলপুর এলাকার একটি ইটভাটার পাশের পুকুরপাড় থেকে তার
ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিন্তু এই মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে
জমাটবদ্ধ রহস্য। পরিবারের দাবি এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং একটি
সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহত বিল্লাল রায়তলা গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে।
পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন তিনি। সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর
মঙ্গলবার সকালে ভাগলপুর গ্রামের নির্জন এক গাছের ডালে তার মরদেহ ঝুলতে
দেখেন স্থানীয়রা। পুলিশ এসে যখন মরদেহটি নামায়, তখন সেখানে জড়ো হওয়া
মানুষের চোখেমুখে ছিল কেবলই প্রশ্ন আর বিস্ময়।
বিল্লালের ঘরে এখন শুধুই
শূন্যতা। তার ১০ বছর বয়সী বড় ছেলের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে রায়তলা গ্রামের
আকাশ। অবুঝ শিশুটির প্রশ্ন, “আমাদের কেন এতিম করা হলো?” নিহতের স্ত্রী
সন্তানদের বুকে চেপে ধরে দাবি করেন, তার স্বামী কোনোভাবেই আত্মঘাতী হওয়ার
মতো মানুষ ছিলেন না। কেউ তাকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরদেহ গাছে
ঝুলিয়ে রেখেছে। তিনি এই ঘটনার পেছনে দায়ীদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের
আওতায় আনার দাবি জানান।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান
জামিল খান দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে জানান, খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে
পৌঁছায়। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, "ময়নাতদন্তের রিপোর্টই
বলে দেবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। আমরা প্রতিটি ক্লু গুরুত্বের সাথে
খতিয়ে দেখছি। রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।"
