ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী প্রার্থিতা ফিরে পেতে লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে মুন্সীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ আল মামুন। হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা।
ঋণ খেলাপির অভিযোগ এনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসিতে আবেদন করেন ওই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণ খেলাপির অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন একই আসনের এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে শুনানি শেষে গত ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। সেই সঙ্গে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
ইসির এ সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। শুনানি নিয়ে ২১ জানুয়ারি হাই কোর্ট রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে আদেশ দেন।
হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ২৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ শুনানি ২৮ জানুয়ারি (বুধবার) পর্যন্ত মুলতবি করেন। এর মধ্যে হাই কোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে তিনি নিয়মিত লিভ টু আপিল করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর আইনজীবী জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সেই লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
“তার প্রার্থিতা বাতিলের যে আদেশ নির্বাচন কমিশন নিয়েছিল এবং মহামান্য হাই কোর্ট বিভাগ বহাল রেখেছিল, সেটিই মহামান্য আপিল বিভাগ বহাল রাখলেন।
“এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশে যারা ঋণখেলাপি, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না-এই আইনি বিষয়টিই আবারও মহামান্য আপিল বিভাগের দ্বারা একটি নজির স্থাপিত হল।”
আদেশের পর হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আসলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আমি এটা দেখছি না। আমি দেখছি এটা ঋণখেলাপি এবং ব্যাংক ডাকাতদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এবং সাধারণ জনগণের একটা যুদ্ধ।
“আমি এই যুদ্ধটা শুরু করেছি এবং এটার মধ্য দিয়ে পুরো বাংলাদেশ এটা বার্তা পেয়েছে, যদি আপনি ন্যায়ের পথে থাকেন, আপনি আইনের পথে থাকেন, ব্যাংক ডাকাত এবং ঋণখেলাপীরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, দিন শেষে বাংলাদেশ এবং জনগণের বিজয় হবে।”
তিনি বলেন, “আপনি দেখেন একটা মানুষ ১৩০ কোটি টাকারও বেশি হচ্ছে ঋণখেলাপি। ২০০৪-০৫ এ ১৩০ কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়ে সে ২০২৬ সালে এসেছে, সে ঋণ পরিশোধ করে নাই। সে বারবার আপনার হাই কোর্টকে ব্যবহার করে, কোর্টকে ব্যবহার করে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করে।
“বিষয়টি এমন না যে তার প্রথমবারই প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। একই ঘটনার কারণে সে ২০০৮ সালেও নির্বাচন করতে পারেনি।”
