ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ঘনিয়ে আসায় সারাদেশের মতো
কুমিল্লার চান্দিনাতেও নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার
করছেন প্রচার-প্রচারণায়। ভোটারদের মন জয় করতে চলছে নানা কৌশল। চায়ের দোকান,
হাট-বাজার, মাঠ-ঘাট সবখানেই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে কে জিতবেন, কার
জনপ্রিয়তা বেশি, কে কাকে ভোট দেবেন।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি
ব্যতিক্রমী বিষয় যুক্ত হয়েছে ভোটাররা একই দিনে দেবেন দুটি ভোট। একটি
ব্যালটে সংসদ সদস্য পদের প্রার্থীর প্রতীক নির্বাচন করবেন, অন্য ব্যালটে
অংশ নেবেন গণভোটে। গণভোটের ব্যালটে কোনো প্রতীক থাকবে না; সেখানে ভোটারদের
সিল মারতে হবে “হ্যাঁ” অথবা “না”।
কিন্তু সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা
গেছে, এই গণভোট সম্পর্কে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক অজ্ঞতা। গণভোট
কী, কেন এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, “হ্যাঁ” বা “না” ভোট দিলে এর ফলাফল কী হবে
এসব বিষয়ে ন্যূনতম ধারণা নেই অধিকাংশ ভোটারের।
কুমিল্লা-৭ আসনের
চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে রিকশাচালক, দিনমজুর, দোকানি, কৃষকসহ
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৯৫ শতাংশ
ভোটারই গণভোট সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অনেকেই প্রথমবারের মতো শুনেছেন যে
সংসদ নির্বাচনের দিন দুটি আলাদা ব্যালটে ভোট দিতে হবে।
চান্দিনা বাজারের রিকশাচালক হাবিব মিয়া বলেন- “ভোট দিবো এইটা জানি, কিন্তু দুইটা ভোট কেন দিবো, গণভোট কী এইসব কেউ বুঝায় নাই।”
একই ধরনের কথা বলেন দিনমজুর মোস্তফা, “প্রতীক চিনেই তো ভোট দেই, হ্যাঁ-না লিখা ভোট কিসের জন্য জানি না।”
যদিও
সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে
প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তবে তাতে তেমন সাড়া পড়েনি সাধারণ ভোটারদের
মধ্যে। স্থানীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে কার্যকর জনসচেতনতা তৈরি হয়নি বলে মনে করছেন
সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, প্রার্থীদের প্রচারণায়ও গণভোটের বিষয়টি প্রায়
অনুপস্থিত। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ভোটাররা যে দুটি আলাদা ভোট দেবেন নিয়ে
কোনো প্রার্থীকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায়নি। সকল প্রার্থীই নিজেদের
প্রতীক ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নিয়েই প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয়
কয়েকজন সচেতন ভোটার ও শিক্ষিত মহল মনে করছেন, গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ
একটি বিষয়ে ভোটারদের অজ্ঞতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক। তাদের
মতে, ভোট দেওয়ার আগে ভোটারদের জানার অধিকার রয়েছে তারা কী বিষয়ে মতামত
দিচ্ছেন এবং তার প্রভাব কী হতে পারে।
উপজেলা সদরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত
প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান- সংস্কার প্রস্তাবে কি কি যুক্ত করা বা
বালিত করা হয়েছে তার কিছুই ৯৫ শতাংশ জনগণ জানে না। ব্যক্তিগত ভাবে গণভোটে
আমি কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিবো বা কেন ‘না’ ভোট দিবো তার কিছুই জানি না। জণগণের
মতামত যদি মূখ্য বিষয় হতো তাহলে সরকার যেভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ক্যাম্পেইনের
পাশাপাশি সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়েও ক্যাম্পেইন করা দরকার ছিল কমপক্ষে ছয়
মাস। জনগণ বুঝে শুনে গণভোটে অংশ গ্রহণ করতে পারলেই ভাল হতো।
সব মিলিয়ে,
চান্দিনাসহ গ্রামীণ জনপদগুলোতে গণভোট নিয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় ভোটের
দিন অনেক ভোটারই বিভ্রান্তির মুখে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কা করছেন
সংশ্লিষ্টরা।
