জমে
উঠেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা। নির্বাচনী মাঠ
প্রার্থীদের অনুকূলে থাকায় প্রচারণা সরেগরম ২৫৫ নং কুমিল্লা-৭ আসনটি। একটি
মাত্র উপজেলা নিয়ে গঠিত চান্দিনা আসনটিতে পাঁচ জন প্রার্থী
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক
প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ, ১০ দলীয় জোট প্রার্থী
খেলাফত মজলিসের মাও. সোলাইমান খাঁন, বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী
আতিকুল আলম শাওন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মুফতি এহেতাশামুল হক
কাসেমী, সংস্কৃতি মুক্তিজোট প্রার্থী সজল কুমার কর।
তাদের মধ্যে বিএনপি
প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে
শুরু করে গত ৬টি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৪টিতেই জয় লাভ করেছিলেন। মাত্র ২৭ বছর
বয়সে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য হন
ড. রেদোয়ান আহমেদ। ১৯৯১ সালের সংসদে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ও ২০০১ সাল
বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর
দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রবীন ওই প্রার্থীর বিপরীতে বাকি চার প্রার্থী
নির্বাচন মাঠে নবীন।
এই পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চারজন প্রার্থী নির্বাচনী
প্রচারণায় তোরজোর থাকলেও এখনও নিস্ক্রিয় সংস্কৃতি মুক্তিজোট প্রার্থী সজল
কুমার কর। বাকি প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত অবধি গণসংযোগ সহ প্রচার প্রচারণায়
ব্যস্ত সময় পার করছেন। উঠান বৈঠক, পথসভায় প্রার্থীরা দিচ্ছেন প্রতিশ্রতির
ফুলঝুড়ি। তবে ওই চার প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান
আহমেদ এর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম এর ভোট যুদ্ধের সম্ভাবনা
দেখছেন ভোটার ও সাধারণ মানুষ।
নির্বাচনী মাঠে ড. রেদোয়ান আহমেদের
নেতা-কর্মী ও ভোটারদের পাশাপাশি আছে গত ছয়টি নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা, আর
স্বতন্ত্র প্রার্থী তরুণ রাজনৈতিক নেতার ভরসা তার সমর্থিত নেতা-কর্মী ও
ভোটাররা। এ আসনে ড. রেদোয়ান আহমেদকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়ার পরও
মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আতিকুল আলম শাওন। ২০
জানুয়ারীর মধ্যে মনোনয়নপত্র পত্র প্রত্যাহার না করায় ২১ জানুয়ারি তাকে দল
থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২৬ জানুয়ারি উপজেলা বিএনপি'র কমিটি বিলুপ্ত করে
কেন্দ্রীয় বিএনপি।
দলীয় প্রার্থীদের ভোটার সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের
প্রভাবের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সরব উপস্থিতি এইসব মিলিয়ে কুমিল্লা-৭
আসনের নির্বাচনটি এবার বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে বলে মনে
করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা।
স্থানীয় ভোটারদের
সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- এবার ভোটের মাঠে মূল লড়াই হবে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব
বনাম বিদ্রোহী তারুণ্যের মধ্যে। পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক ভোট বিভাজন নির্বাচনী
ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সব মিলিয়ে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা)
আসনের নির্বাচন শুধুই ব্যক্তি প্রতিযোগিতা নয়; এটি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা,
বিদ্রোহী রাজনীতি ও ধর্মভিত্তিক ভোট রাজনীতির একটি পরীক্ষা ক্ষেত্র হিসেবেও
বিবেচিত হচ্ছে।
