ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগিয়েছেন কুমিল্লার ১ থেকে ১১টি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। সকাল থেকেই নগর ও গ্রামাঞ্চলের হাটবাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, পাড়া-মহল্লা ঘিরে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, গণসংযোগ ও পথসভায় এখন মুখর পুরো জনপদ। ছুটির দিন হওয়ায় গণসংযোগ, পথসভা নির্বাচনী সমাবেশে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা প্রার্থীদের প্রচারণায় বাড়তি গতি এনে দেয়। প্রচার প্রচারণায় প্রার্থীরা জাতীয় রাজনীতি, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, তরুণদের ভবিষ্যৎ এসব ইস্যু ঘিরেই তুলে ধরছেন নিজেদের অবস্থান ও অঙ্গীকার।
দ্বিতীয়দিনের প্রচারণায় শুক্রবার দিনব্যাপ গণসংযোগ ও পথসভা করেন কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এদিন চিওড়া স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি ভুয়া বিষয় এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিকে বেআইনি ঘোষণা দিয়েছেন। যারা এ ধরনের কার্ড নিয়ে কেন্দ্রে যাবে তাদের আটক করার নির্দেশ রয়েছে, যা স্পষ্টভাবে নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি দল নতুন করে ভারতের সঙ্গে আপোষ করে আবারও দেশ শাসনের জন্য বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিতে চায়, তবে এ দেশের মানুষ এবং চার কোটি যুবসমাজ তা কখনো মেনে নেবে না।
আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের একই সমাবেশে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আবারও ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে এবং যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছে তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হতে।
সমাবেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সরাসরি ভোটের মাঠে নেমে পড়েন। শুক্রবার সকাল থেকে দেবিদ্বার নিউমার্কেট পৌর এলাকা, ভিংলাবাড়ি ও মোহনপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছান। প্রচারণাকালে তিনি আজাদী ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত রাজনীতির অঙ্গীকার তুলে ধরে শাপলাকলি প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
বিভিন্ন পথসভা ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে তিনি কিংবা তার কোনো কর্মী চাঁদাবাজি, বাজার দখল বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না; বরং কর্ম করে খাওয়া মানুষ, রেমিটেন্স যোদ্ধা ও মেহনতী মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
একই দিনে কুমিল্লা-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় ছিলেন। গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীমউদ্দীন দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা ও গণসংযোগ করেন। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল করিম ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রচারণায় অংশ নেন।
শুক্রবার কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জসীম উদ্দীনের মাঠপর্যায়ের প্রচারণা ছিল প্রাণবন্ত। এ প্রার্থী কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। সেচব্যবস্থা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ছিল আলোচনায়।
কুমিল্লা-৬ সদর আসনের ধান প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী কুমিল্লা সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনের সভা করেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় পথসভা ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়। উন্নত নাগরিক সেবা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও যানজট নিরসনের বিষয়গুলো ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে কুমিল্লা-৯(লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির ধান প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের সামিরা আজিম দোলার মধ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ তুলনামূলক বেশি। শুক্রবার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জে পৃথক পৃথক সভা ও গণসংযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। রেল যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কুমিল্লা -১০ (নাঙ্গলকোট - লালমাই) আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত এর নেতৃত্বে শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি বিকেলে বাগমারা বাজারে নির্বাচনী গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ন সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন শিশির উপস্থিত ছিলেন।
