রাজনীতিকে
সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির
(এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের
প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, "রাজনীতি যদি ব্যয়বহুল হয়ে যায়, তবে তা
ব্যাংক ডাকাত, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজদের হাতে বন্দী হয়ে পড়বে। রাজনীতি যেন
ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) এবং তার রিটার্ন (মুনাফা) পাওয়ার মাধ্যম না হয়।"
শুক্রবার
(২৩ জানুয়ারি) সকালে দেবিদ্বার নিউমার্কেট মসজিদে ফজর নামাজ আদায় শেষে
দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচনী পথসভা ও গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন
তিনি পৌরসভার ভিংলা বাড়ি, শান্তির রোড এবং মোহনপুর ইউনিয়নের বিহারমন্ডল ও
ছোটনা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৃথক পৃথক উঠান বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া বরকামতা
ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে তার নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন।
হাসনাত
আবদুল্লাহ বলেন, ব্যাংক ডাকাতরা তাদের লুট করা টাকা রক্ষা করতে রাজনীতিতে
আসে। তারা মনোনয়ন কিনে নিশ্চয়তা চায় যেন গুন্ডাপাণ্ডা পুষতে পারে এবং
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি-বাড়ির সুবিধা নিতে পারে। ৫ বছর এমপি থেকে তারা ঠিকাদারি
লাইসেন্স দিয়ে ব্যবসা করতে চায়। এই সংস্কৃতি আমাদের বন্ধ করতে হবে। ঋণ
খেলাপি ও ব্যাংক চোরদের যারা মনোনয়ন দিয়েছে, জনগণ তাদের চিহ্নিত করেছে।
আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করা হবে।
নির্বাচনী
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশ সবার। এখানে নতুন কোন পীর এসে ওছিয়ত
দিতে পারবে না। দিল্লি বা পিন্ডি চলে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে আর বিভাজনের রাজনীতি
চলবে না।" তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজনীতিবিদদের ঘিরে কৃত্রিম
বলয় তৈরি করবেন না। বিশেষ প্রটোকল বা বড় চেয়ারের সংস্কৃতি পরিহার করে
রাজনীতিকে উন্মুক্ত রাখুন যেন শিক্ষিত সমাজ এখানে আসতে আগ্রহী হয়।
ভোটের
পরিবেশ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যাদের ভোট চুরি ও আইন
ভাঙার স্বভাব আছে, তারা যদি মনে করেন ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে দেবেন না-তবে
বাড়ি থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হয়েন। কারণ জনগণ এবার প্রতিরোধ করলে
আপনারা আর ঘরে ফিরতে পারবেন না।" তিনি নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন, কোনো
নেতা যদি জোরালোভাবে ভোট ডাকাতির চেষ্টা করে, তবে জনতাকে সাথে নিয়ে তাকে
গাছের সাথে বেঁধে প্রতিরোধ করতে হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "আমি মাটি
খেকু, গোমতী নদীর মাটি চোর বা হাসপাতালের দালালদের নিয়ে নির্বাচনে নামিনি।
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে মানুষের সেবা করতে এসেছি।
আপনারা আমাদের বিনা পয়সায় ভোট দিবেন, আমরা আপনাদের ৫ বছর বিনা পয়সায়
সার্ভিস দিব।" তিনি সতর্ক করেন যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনই রুখে না
দাঁড়ালে সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবার কার্ড পেতেও কয়েকগুণ বেশি ঘুষ দিতে
হবে।
এদিন হাসনাত আবদুল্লাহর গণসংযোগে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শহীদ। এছাড়াও ১০ দলীয় জোটের স্থানীয়
বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সমর্থক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শান্তিপূর্ণ
ও সুশৃঙ্খলভাবে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শেষ করে আগামী দিনগুলোতেও ভোটারদের
দ্বারে দ্বারে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই প্রার্থী।
