লালমাই
পাহাড়ে পর্যটন উন্নয়ন হলে বদলে যাবে কুমিল্লার অর্থনীতি বিজয়পুর ইউনিয়ন
লালমাই এলাকায় গণসংযোগ এসে বিভিন্ন সভায় একথা বলেন কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর,
কুমিল্লা মহানগরী, সদর দক্ষিণ ও সেনানিবাস এলাকা) আসনের সংসদ সদস্য
প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মাদ। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দিনব্যাপী গণসংযোগ,
উঠান বৈঠক, নির্বাচনি অফিস উদ্বোধন ও সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে
বিভিন্ন এলাকায় যান,
দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ৯টায় ভিক্টোরিয়া কলেজ
ইন্টার সেকশন এলাকায় ছাত্র-জনতার উদ্যোগে প্রতিবাদ ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচি
অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেয়ালচিত্র পুনঃস্থাপন করা হয় এবং চিকা মারার সামগ্রী
সরবরাহ করা হয়, যাতে প্রতিবাদের ভাষা আরও তীব্র ও সংগঠিত হয়।
ঘটনার
বিরুদ্ধে সংহতি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরী আমীর এবং
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। তিনি বলেন,
“শহীদের রক্ত ও তরুণ প্রজন্মের চেতনা কখনো কালির আঁচড়ে মুছে যাবে না। যারা
দেয়ালের ভাষা বন্ধ করতে চায়, তারা ভয় পায় ন্যায় ও সত্যের রাজনীতিকে।”
তিনি
আরও দাবি করেন, শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে
দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র-জনতা আন্দোলনকে আরও
বেগবান করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সকাল ১০টায় কোটবাড়ি বার্ড ও গন্ধমতি এলাকায় গণসংযোগ শেষে লালমতি মিলগেইট ও লালদিঘীর পাড় এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
বিকাল
৩টা ৩০ মিনিটে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের
রাজারখলা বটতলী বাজারে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মো. জুয়েলের সঞ্চালনায় এবং
ওয়ার্ড সভাপতি মো. সোহেল রানা ও সেক্রেটারি মো. আরিফুর রহমানের উপস্থিতিতে
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন হাজী আব্দুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি
হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মাদ। বিশেষ
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি
মোজাম্মেল হোসেন আবির, কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি হাসান আহমেদ,
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চল পরিচালক মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন, ইউনিয়ন আমীর
আব্দুল মুমিন, ইউনিয়ন সেক্রেটারি শাহিন আহমেদসহ অন্যান্য স্থানীয়
নেতৃবৃন্দ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নেতা মো. আল-আমিন ও প্যানেল
চেয়ারম্যান যুবরাজ ভৌমিক।
বক্তব্যে কাজী দ্বীন মোহাম্মাদ বলেন, “ভিন্নমত
হলে আয়নার ঘরে যেতে হবে না-সবাই স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে পারবে। আমরা গত
১৭ বছর কথা বলতে পারিনি, বললে আয়না ঘরে ঠিকানা হয়েছে, ঘুম-খুনও সহ্য করতে
হয়েছে। জনগণের বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগি হয়েছে, এসব দুর্নীতি আর হতে দেব না।
এক টাকা পর্যন্ত জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“লালমাই পাহাড় জাতীয় সম্পদ। সঠিক ব্যবস্থাপনায় এই পাহাড় পর্যটকের আকর্ষণ
কেন্দ্র হলে এ অঞ্চলে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলবে। শুধু দেশ নয়, বিদেশ
থেকেও পর্যটক আসবে।”
সভাপতি হাজী আব্দুর রহমান বলেন, “ন্যায় ও ইনসাফের
সমাজ গড়তে দাঁড়িপাল্লা মার্কার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আল্লাহকে
হাজির-নাজির করে বলছি-এ বিষয়ে আমরা একমত।”
দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে
সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে মধ্যম বিজয়পুর নমসুধপাড়া চৌমুহনীতে আরেকটি উঠান বৈঠক
অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা মুখবুল আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকটি সম্পন্ন হয় এ ছাড়া
গোটা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাধারন মানুষের সাথে কথা বলেন।
