
নিজের
কর্মী-সমর্থক ও নিজের গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)
দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জামায়াত-এনসিপি
জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আমার কাছে কোনো বিত্ত-বৈভব নেই,
নেই কোনো অবৈধ সুবিধার প্রলোভন। যেই সততার কারণেই আপনারা হাদি ভাইকে এখনো
মনে রেখেছেন। সে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ছাড়া দেওয়ার
মতো আমার কাছে আর কিছুই নেই।
আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নে নিজের গ্রাম গোপালনগর ঈদগাহ
মাঠে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রার অংশ হিসেবে উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন
তিনি। এর আগে রসুলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে
কুশল-বিনিময় ও কয়েকটি উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন তিনি।
হাসনাত
আব্দুল্লাহ আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন দুটি পক্ষ অবস্থান নিয়েছে, একটি পক্ষ
রাষ্ট্রে হাদি ভাইয়ের ইনসাফ কায়েমের পক্ষে আরেকটি পক্ষ জুলুম নির্যাতনের
পক্ষে। একটি পক্ষ ভারতীয় আগ্রাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে আরেকটি পক্ষ
ভারতের গুন্ডাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একটি পক্ষ ঋণ খেলাপীদের পক্ষে
আরেকটি পক্ষ দেশের মানুষের শ্রমে ঘামে গড়া এই দেশের পক্ষে। যারা জনগণের
হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে তাঁরা এখন সংসদে গিয়ে পুরানো সেই
সংস্কৃতি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে চায় বিদেশে টাকা পাচারের সংস্কৃতি
বাংলাদেশে আর হতে দেওয়া হবে না। যারা জনগণ ও ব্যাংকের টাকা মেরে সন্তানকে
বিদেশ পাঠায় আর সে সন্তান বারে বসে মদ খায় আর কর্মীদের বর্ডারে পাঠায় সে ঋণ
খেলাপীদের সংসদে আর জায়গা হবে না। সংসদ চলবে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে।
হাদি
ভাই ওই রকম না বলেই তার সততার কারণে আমরা তাকে স্মরণ করি। হাদি ভাইয়ের
জন্য বাংলাদেশের এমন কোন মসজিদ নেই যেখানে তাঁর জন্য দোয়া করা হয়নি। কারণ
তিনি ব্যাংকের টাকা মেরে খায়নি, তার সততার কারণে আজ গোটা দেশ তাঁর জন্য
দোয়া করে। গ্রামের মায়েরা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে হাদির হত্যার বিচার কিন্তু এ
দেশে হইতে হবে। হাদি ভাইয়ের যে অসিয়ত তাঁর হত্যার বিচার করা আমরা সে
বিচার এই বাংলাদেশেই হবেই।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বক্তব্যে আরও বলেন, আমরা
যারা এক সঙ্গে মিলে ইনসাফের পক্ষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে
ভারতীয় গুন্ডাদের বিরুদ্ধে থাকব একমাত্র তাঁরাই সংসদে যাবো। আমরা এবার
সৎ-দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফের একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই।
রসুলপুর
ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী কাজী হাসানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন,
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো.শাহজাহান সরকার, ইউপি সদস্য হাসান মেম্বার,
মো.সিরাজুল ইসলাম, সামসুল হক পুলিশ, সোহাগ চৌধুরী প্রমুখ।
