কুমিল্লার
মুরাদনগর উপজেলায় অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা
প্রশাসন। অবৈধ ড্রেজিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পরিচালিত একযোগে মোবাইল কোর্ট
অভিযানে ১১টি ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ৪ হাজার ফুট প্লাস্টিক পাইপ জব্দ ও
অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে এক দোকানিকে
জরিমানা করা হয়।
বৃহস্পতিবার উপজেলার পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের এলখাল
এলাকা, আন্দিকোট ইউনিয়নের বারেশ্বর এবং কোরবানপুর বাজারে একযোগে মোবাইল
কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
মোঃ আবদুর রহমান।
অভিযানকালে কৃষিজমি ও পরিবেশবিনাশী অবৈধ ড্রেজিং
কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে
একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে মাটি ও
বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি
পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল।
মোবাইল কোর্ট চলাকালে
ঘটনাস্থল থেকে অবৈধভাবে ব্যবহৃত ১১টি ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ৪ হাজার ফুট
প্লাস্টিক পাইপ জব্দ ও অপসারণ করা হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে
সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। জব্দকৃত সরঞ্জাম ধ্বংসসহ প্রয়োজনীয়
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে অভিযানের অংশ হিসেবে কোরবানপুর
বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। সেখানে একটি মিষ্টির দোকানে প্যাকেটজাত
মিষ্টিতে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে অতিরিক্ত ওজন (প্রায় ১৭০ গ্রাম) প্রদান করে
ভোক্তাদের প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ
আইনে দোকানিকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
মোঃ আবদুর রহমান বলেন, অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, পানি
প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এসব অনিয়মের
বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মোবাইল কোর্টের অভিযান
নিয়মিত ও আরও জোরদার করা হবে।
প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ
করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা অবৈধ ড্রেজিংসহ সব ধরনের অনিয়ম বন্ধে
নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
