কুমিল্লার বরুড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ তাজুল ইসলাম (৫৫)-এর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার
(৬ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বরুড়া উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের সরাফতি সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে
তাকে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নামাজে জানাজা পূর্ব
স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ
জাহিদ হাসান, বরুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মোঃ আবুল হাসেম, সাধারণ
সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ আহমদ, দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ কামরুজ্জামান জনি, বরুড়া থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ঝলম উচ্চ বিদ্যালয়
ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মাসুদ মজুমদার, বরুড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের
সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকরামুল হক এবং দৈনিক বরুড়া কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদকম-লীর
সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ শাহ আলম।
এছাড়াও বক্তব্য দেন ভবানীপুর ইউনিয়ন
পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজাউল হক রেজু, বরুড়া পৌরসভা বিএনপির
সাধারণ সম্পাদক মোঃ মফিজুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট আবদুল
মান্নান, ডাঃ আবদুল মতিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
জানা
যায়, মোঃ তাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা ও ডায়াবেটিসসহ
নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য
তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তিনি ঢাকা মিরপুর
হার্ট ফাউন্ডেশনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বরুড়া উপজেলার আগানগর
ইউনিয়নের সরাফতি গ্রামে জন্ম নেওয়া তাজুল ইসলাম সাংবাদিকতার মাঠে ছিলেন এক
পরিচিত, সাহসী ও বিশ্বাসযোগ্য নাম। তিনি দৈনিক ভোরের কাগজ, রূপসী বাংলা,
বাংলার আলোড়ন, নিরীক্ষণ, দৈনিক শ্রমিক, দৈনিক মুক্তির লড়াই, দৈনিক বরুড়া
কণ্ঠসহ একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় উপজেলা ও জেলা প্রতিনিধি হিসেবে
দায়িত্ব পালন করেন। তথ্য অধিকার ও মানবাধিকার বিষয়ে তার লেখালেখি ও ভূমিকা
পাঠকমহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত ছিল।
সাংবাদিকতা ছিল তার কাছে শুধু পেশা
নয়—ছিল দায়িত্ব, সংগ্রাম ও নৈতিক অবস্থান। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এই
সাংবাদিক আপোষহীনভাবে সত্য প্রকাশে অবিচল ছিলেন। এ কারণেই তিনি সাধারণ
মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানবাধিকার আন্দোলনেও তার অবদান স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।
মৃত্যুকালে
তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার
প্রয়াণে পরিবার যেমন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে, তেমনি বরুড়ার সাংবাদিক অঙ্গন
হারাল এক অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ পথপ্রদর্শককে।
তার ইন্তেকালে বরুড়া
প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ
করেছে। শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
