কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো: আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনে তাকে সরিয়ে দিতে বলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এস এম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠকে এ অনুরোধ জানানো হয়।
পুলিশ সুপার মো: আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে কুমিল্লার দেবিদ্বারের এনসিপি মনোনীত প্রার্থী হাসানাত আবদুল্লাহর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। সে বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামী। সেই সাথে তাকে সরিয়ে দিতে অনুরোধ করা হয়। বিশ^স্থ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো: তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে দেখা করে। পরে ডা. তাহের নির্বাচন কমিশনে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন। সেখানে কোন কোন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে সরিয়ে দিতে বলা হয়েছে তা তিনি উল্লেখ না করে বলেছেন, ‘আমরা স্পেসিফিক কোন তালিকা দেইনি।’
তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল কমিল্লার পুলিশ সুপার মো: আনিসুজ্জামানের পক্ষপাত ও অসৌজন্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সুনিদ্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন।
অপরদিকে কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার পরও তার মনোনয়ন বাতিল না হওয়া এবং জামায়াতের প্রার্থী ইউসুফ সোহেল হলফনামায় দ্বৈত নাগরিক প্রশ্নে টিক চিহ্ন না থাকায় তার মনোনয়ন বাতিলে পক্ষপাতমূলক আচরণের কথা তুলে ধরেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে বৈঠক শেষে বাংলাশে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয় আব্দুল্লাহ মো. তাহের সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে বলেন- রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে অনেক ডিসি ও এসপি পক্ষপাত করছে। তারা একটা রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছে। পক্ষপাতদুষ্ট এসব ডিসি ও এসপিদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বলেছেন তিনি।
ডা. তাহের বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে কোনও কোনও জায়গায় কোথাও কোথাও গ্রহণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বাতিল করা হয়েছে। যেমন বিএনপির আব্দুল আউয়ালের গ্রহণ করা হয়েছে। মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবারে দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে। আমাদের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে আওয়ামী আমলে মামলায় দুই রকম সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা বলেছি, দলীয় পক্ষপাত করছে রিটার্নিং কর্মকর্তারা। আমরা সে সকল রিটার্নিং কর্মকর্তা ও এসপিকে সরিয়ে েিত বলেছি। যারা একটা পলিটিক্যাল পার্টিকে বিলং করতে চায়, তারে সরিয়ে দিতে বলেছি।”
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, “নির্বাচনের সময় একজনকে অনেক প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে। যেটা মানুষের মানুষের মাঝে ইম্প্রেশন আসতে পারে, ‘হি বিকাম সামথিং’। তারা বলেছেন, নীতিগতভাবে বিষয়টি দেখবে। এছাড়া একটি দলের পক্ষ থেকে ক্ষমতায় গেলে কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এটা আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
নায়েবে আমির বলেন, “আমরা সিসিটিভির কথা বলেছি। উনারা ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে এটা করবে। নির্বাচন একতরফা করে একটি দল নির্বাসনে আছে। এখন আরেকটি দল এমন করলে তারাও নির্বাসনে যাবে। এভাবে চলতে থাকলে তো আর বাংলােেশ কোনও ল থাকবে না। আমরা বলেছি, আপনাদের (ইসি) মাঠে প্রমাণ করতে হবে। আমরা স্পেসিফিক কোনও তালিকা দেয়নি ডিসি-এসপিদের। আমরা পর্যবেক্ষণ করবো, তারপর তালিকা দেবো।”