
ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে সাতজন
প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়নপত্র বৈধ হলে এই
আসনে ভোটের মাঠে হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা
রয়েছে বলে মনে করছেন ভোটার ও সমর্থকরা। তবে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া
হলফনামায় বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বাৎসরিক আয়, নগদ অর্থ, স্থাবর-অস্থাবর
সম্পদ এবং স্বর্ণালঙ্কারের ক্ষেত্রে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের
ব্যবধান।
এই আসনে ৭২ বছর বয়সী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক
প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ তাঁর হলফনামায় উল্লেখ
করেছেন, তিনি এলএলএম ডিগ্রিধারী। তাঁর বাৎসরিক আয় ৫ কোটি টাকা। নগদ অর্থসহ
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। পাশাপাশি
নিজের ও স্ত্রীর নামে তাঁর স্বর্ণালঙ্কারের পরিমাণ ৫৮ ভরি। বাৎসরিক আয়কর
দেন ২৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা
এছাড়া স্ত্রী সন্তানের আয় প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তাদের সম্পদ রয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। তারা আয়কর দেন প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে,
৩৬ বছর বয়সী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি
আতিকুল আলম শাওন তাঁর হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এইচএসসি পাস
উল্লেখ করেছেন। তাঁর বাৎসরিক আয় ২৬ লাখ ২১ হাজার ৮শ টাকা। নগদ অর্থসহ
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে ২ কোটি ৪৬ লাখ
টাকা। এছাড়া নিজের ও স্ত্রীর নামে তাঁর স্বর্ণালঙ্কারের পরিমাণ ১৫ ভরি।
বাৎসরিক আয়কর দেন ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩শ টাকা। স্ত্রীর নামে সম্পদ মাত্র ৫০
হাজার টাকা। নাবালক দুই সন্তানদের নামে নেই কোন সম্পদ।
মনোনয়নপত্র
অনুযায়ী দুই প্রার্থীর মধ্যে আয় ও সম্পদের ব্যবধান স্পষ্ট হলেও
রাজনৈতিকভাবে দুজনই নিজ নিজ অবস্থানে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।
যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়ন বৈধ হলে কুমিল্লা-৭ আসনে ভোটারদের মধ্যে তীব্র
প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে
প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া তথ্য নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল ও
আলোচনা বাড়ছে। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হলে এই
আসনের নির্বাচনী সমীকরণ আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক
পর্যবেক্ষকরা।
