১৯১৮ সালের জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই কুমিল্লায় ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে অনেক বাড়িঘর ধসে পড়েছিল এবং প্রাণহানিও হয়েছিল অনেক মানুষের। ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে পাওয়া তিন শ’ বছরের সংবাদপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সে সময়ের ভূমিকম্পের একটি খবর ছাপা হয় ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত ইংলিশম্যান ওভারল্যান্ড মেইল পত্রিকায়। পত্রিকাটিতে ‘ডেইলি শকস কন্টিনিউ ইন সিলেট’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরে বলা হয়— ১৯১৮ সালের ১১ জুলাই সোমবার থেকে প্রতিদিনই তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে, যা কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। কলকাতা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং কুমিল্লায় তা ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে তেমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ভারী বর্ষণের কারণে ভেঙে পড়া ভবনগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার ভূমিকম্পের পর আরও তিনবার ভূমিকম্প হয়েছে। চাঁদপুরে নতুন করে কম্পন হয়েছে। সোমবার রাত ১১টা নাগাদ একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সংবাদটিতে কুমিল্লার কোন কোন ভবন ভেঙে পড়েছিল তার কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৌলভীবাজারে তীব্র ভূমিকম্পে অনেক বাড়িঘর ধসে পড়ে এবং বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে তথ্য পাওয়া যায়।
১৯১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর কুমিল্লায় আরেকটি ভূমিকম্পের তথ্য পাওয়া যায়। পাকিস্তানের করাচি থেকে প্রকাশিত সিভিল অ্যান্ড মিলিটারি গেজেট পত্রিকায় ১৯ ডিসেম্বর ‘কুমিল্লায় ভূমিকম্প’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরে বলা হয়— দুপুরে একটি স্মার্ট ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
এ ছাড়া ১৯০ বছর আগে ১৮৩৫ সালের ১০ এপ্রিল লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোতে কুমিল্লা ও এলাহাবাদে ভূমিকম্পের তথ্য পাওয়া যায়, কিন্তু বিস্তারিত পাওয়া যায় না।
১৯৩৫ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে কুমিল্লায় দুটি ভূমিকম্পের তথ্য পাওয়া যায়। ২৩ মার্চ ও ২৫ এপ্রিল এ দুটি ভূমিকম্প হয়। ১৮৯৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়ান ডেইলি নিউজ-এ প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়— কুমিল্লা জজ আদালত ভবন ভেঙে পড়েছে। এতে আহত হয়েছেন একজন। ভূমিকম্পের পর যথাযথ মেরামত না করায় ভবনটি ভেঙে পড়ে বলে সংবাদে বলা হয়। সে বছর ১২ জুন ভূমিকম্প হয় বলে তথ্য পাওয়া যায় সিভিল অ্যান্ড মিলিটারি গেজেট পত্রিকায়।
১৯০৯ সালের ১৬ জানুয়ারি কুমিল্লায় ভূমিকম্প হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায় আইরিশ ইন্ডিপেনডেন্ট-এ।
