দীর্ঘ
৩৭ বছরের সরকারি চাকরি শেষে অবসরে গেলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের
সার্জারি বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শের-ই-সাকতি। ২ জুলাই তাঁকে
বিদায় জানাতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এক আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
এতে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক, উপ-পরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা,
ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান, আরপি, আরএস এবং বিভিন্ন বিভাগের
চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।
সহকর্মীদের ভাষ্য, ডা. শের-ই-সাকতি ছিলেন একজন
নীরব, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক। প্রতিদিন পুরোনো একটি মোটরসাইকেলে বাড়ি
থেকে হাসপাতালে এসে যথাসময়ে দায়িত্ব পালন করতেন। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত
থাকলেও তিনি সবসময় দরিদ্র রোগীদের জন্য সরকারি ওষুধ নিশ্চিত করার চেষ্টা
করতেন, যাতে চিকিৎসার ব্যয় তাদের জন্য সহনীয় হয়।
চাকরি জীবনের শুরু হয়
১৭তম বিসিএসের মাধ্যমে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে
সরকারি দায়িত্বে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুই বছর কর্মরত ছিলেন।
যদিও সেখানে চার বছর থাকার সরকারি সুযোগ ছিল, দেশের মানুষের সেবার টানে
তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরে আসেন। এরপর টানা ১৬ বছর কুমিল্লা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান
করেন।
বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চিকিৎসা পেশা কেবল একটি চাকরি নয়,
এটি মানবসেবার একটি মহান দায়িত্ব। ডা. শের-ই-সাকতি সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার
সঙ্গে পালন করেছেন। তাঁর কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের জন্য অনুকরণীয়
হয়ে থাকবে।
রোগী হালিমা আক্তার বলেন, “অনেক বছর ধরে এই হাসপাতালে
চিকিৎসা নিচ্ছি। যখনই স্যারের কাছে গেছি, তিনি আন্তরিকভাবে চিকিৎসা দিয়েছেন
এবং সম্ভব হলে সরকারি ওষুধ লিখে দিয়েছেন। শুধু আমার সঙ্গেই নয়, অসংখ্য
গরিব রোগীর প্রতিও তিনি একই রকম মানবিক আচরণ করেছেন। এমন রোগীবান্ধব
চিকিৎসক খুব কমই দেখা যায়।”
বিদায়ের মুহূর্তে সহকর্মী,
কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীদের চোখে ছিল আবেগের ছাপ। সবাই তাঁর সুস্বাস্থ্য,
দীর্ঘায়ু ও শান্তিপূর্ণ অবসরজীবন কামনা করেন। হাসপাতালজুড়ে একটাই আলোচনা
একজন সৎ, মানবিক ও রোগীবান্ধব চিকিৎসকের কর্মজীবনের সমাপ্তি হলেও মানুষের
হৃদয়ে তাঁর স্থান অমলিন হয়ে থাকবে।
