ক্রীড়া ডেস্ক
শেষ বত্রিশের দুই ম্যাচে দেখা মিলল দুই ভিন্ন গল্পের। এক ম্যাচে একজন কম নিয়েও দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। অন্য ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে সেনেগালকে বিদায় করেছে বেলজিয়াম। ফলে শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম।
সান ফ্রান্সিসকোয় বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমার্ধে ৬৩ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বাগতিকদের দখলে। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের অপেক্ষায় থাকতে হয় বিরতির আগ পর্যন্ত। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মালিক টিলম্যানের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফোলারিন বালোগানের সামনে চলে আসে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই ফরোয়ার্ড।
বিরতির পর ৬৪ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় যুক্তরাষ্ট্র। বিপজ্জনক ট্যাকলের অভিযোগে ভিএআর পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় গোলদাতা বালোগানকে। তবে একজন কম নিয়েও ছন্দ হারায়নি স্বাগতিকরা। বরং ৮২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মালিক টিলম্যান। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
এই জয়ে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেল যুক্তরাষ্ট্র। আগামী মঙ্গলবার ভোরে শেষ ষোলোর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম।
অন্যদিকে সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচের ৫১ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল বেলজিয়াম। আফ্রিকার দলটির হয়ে গোল করেন হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সার। নির্ধারিত সময়ের শেষ ভাগে এসে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকু ব্যবধান কমানোর পর ৮৯ মিনিটে ইউরি টিলেমান্স সমতা ফেরান। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে বক্সের ভেতর টিলেমান্স ফাউলের শিকার হলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন টিলেমান্স। শেষ বাঁশি পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে ইউরোপের দলটি।
এখন শেষ ষোলোর মঞ্চে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম। আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত দুই দলের লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হয়ে উঠবে বলেই প্রত্যাশা ফুটবলপ্রেমীদের।
