
বিশ্বকাপের
আয়োজক দেশগুলোর ওপর বরাবরই থাকে বাড়তি প্রত্যাশা। ঘরের মাঠ, পরিচিত পরিবেশ
এবং সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থন সব মিলিয়ে তাদের কাছ থেকে ভালো ফলের আশা করেন
ফুটবলপ্রেমীরা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই প্রত্যাশার মাত্রা ছিল আরও বেশি।
কারণ, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও
কানাডাযৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। টুর্নামেন্টের শেষ ৩২
পর্ব শেষে বলা যায়, সেই প্রত্যাশার মর্যাদা রেখেছে তিন স্বাগতিকই।
বিশ্বকাপের
নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তিন আয়োজক দেশই। কেউই শেষ ৩২ থেকে বিদায়
নেয়নি। বরং নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ফলে বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের সাফল্যের গল্প
আরও সমৃদ্ধ হলো।
সবশেষ শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সান ফ্রান্সিসকোয় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের পরবর্তী
ধাপে উঠে যায় আমেরিকানরা। ম্যাচে গোল করেন ফোলারিন বালোগান ও মালিক
টিলম্যান। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বালোগান, তবু ১০
জনের দল নিয়েও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
এই
সাফল্যের মধ্য দিয়ে ২০০২ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেল
যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ২০১৪ সালে শেষ ষোলোয় ওঠার পর থেকে টানা চতুর্থ
বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার ধারাবাহিকতাও বজায় রাখল তারা।
নিজেদের মাঠে এবার আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে মার্কিন দলটি।
অন্যদিকে
দীর্ঘ চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে মেক্সিকো। ১৯৮৬ সালের পর
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে উত্তর আমেরিকার দেশটি।
গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড গড়ে আত্মবিশ্বাসী মেক্সিকো শেষ ৩২-এ
ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের ধাপে উঠে যায়। আক্রমণাত্মক ফুটবল ও সংগঠিত
রক্ষণে পুরো টুর্নামেন্টেই নজর কেড়েছে তারা।
আরেক সহআয়োজক কানাডা লিখেছে
নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। বিশ্বকাপে এর আগে কখনো শেষ ষোলোয়
উঠতে পারেনি দেশটি। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছে কানাডিয়ানরা। শেষ ৩২-এ দক্ষিণ
আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে
তারা। ঘরের দর্শকদের সামনে এই অর্জন কানাডার ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বড়
সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষও জেনে গেছে তিন
স্বাগতিক। কানাডার সামনে অপেক্ষা করছে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কো। সেই
বাধা পেরোতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে প্যারাগুয়ে
অথবা ফ্রান্স।
মেক্সিকোর জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। শেষ ষোলোয়
তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে জয় পেলে
কোয়ার্টার ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন
ব্রাজিল অথবা চমক দেখানো নরওয়ে।
এদিকে বসনিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়া
যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হবে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে সেনেগালকে
হারানো বেলজিয়ামের। এই ম্যাচের বিজয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারে
স্পেন, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল কিংবা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। ফলে শেষ আটে ওঠার
লড়াইয়ে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্বাগতিক
দেশগুলোর ভালো করার নজির নতুন নয়। তবে তিনটি স্বাগতিক দেশ একসঙ্গে নকআউট
পর্বে জায়গা করে নেওয়ার ঘটনা এবারের আসরকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এখন দেখার
বিষয়, ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তিন আয়োজকের কেউ শেষ পর্যন্ত কতদূর
যেতে পারে। বিশ্বকাপের ট্রফির স্বপ্ন পূরণের পথে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে
ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিদের কঠিন পরীক্ষা।
