ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
সরাইল উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে টানা তৃতীয়
দিনের মত সংঘর্ষ চলছে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার
সকাল থেকে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধর্মতীর্থ ও সূর্যকান্দি গ্রামের
লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ চলে বলে জানান সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া।
স্থানীয়দের
বরাতে পুলিশ জানায়, সূর্যকান্দি গ্রামের মোশারফ মিয়া পার্শ্ববর্তী
ধর্মতীর্থ গ্রামের মো. খাদিমের কাছে এক লাখ টাকা সুদের পাওনা দাবি করেন। এ
নিয়ে বিরোধের জেরে রোববার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও
হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লাঠিসোঁটা, দা, বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এতে ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়া (৫৫) বল্লমের আঘাতে নিহত হন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকালে দাফন করা হয়।
এরপর
আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় কালীকচ্ছ বাজারের একাধিক দোকান ও
ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ
ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
মঙ্গলবার সকালেও আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধর্মতীর্থ গ্রামের লোকজনের সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন যোগ দেন।
এ
সময় সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা পাল্টা অবস্থান নেন। পরে
কালীকচ্ছ বাজার এলাকা আবারও সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেলা সাড়ে ৩টা
পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল।
এ ঘটনায় সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ওসি
মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। এখন
পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলেও
জানান তিনি।
