বশিরুল ইসলাম:
কুমিল্লা
মহানগরীতে মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অভিমানের জেরে সপ্তম
শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর
আনুমানিক ২টার দিকে নগরীর ইপিজেড রোড এলাকার সিলভার স্বপ্নচূড়া ভবনে এ
মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহত শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান শুভ (১৫)। তিনি
কুমিল্লা ইবনে তাইমিয়া স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার
তারাপুষ্কুরুনী মতিন সওদাগর বাড়ির প্রবাসী সোহাগ মিয়া ও খাদিজা আক্তারের
ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মেহেদীর মা খাদিজা আক্তার
তার প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন। এ সময় মেহেদী একটি
মোবাইল ফোনের আবদার করলে মা বিষয়টি তার বাবাকে জানান। তখন বাবা তাকে মোবাইল
ফোন না দেওয়ার কথা বলেন। বাবার ওই কথা শুনে অভিমান করে মেহেদী পাশের একটি
কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।
পরে বিষয়টি মেহেদীর বাবা জানতে পেরে দরজা
খুলে ভেতরে প্রবেশ করতে বলেন। এরপর ভবনের দারোয়ানের সহায়তায় দরজা ভেঙে
কক্ষে প্রবেশ করলে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, মেহেদী গলায় ফাঁস দেওয়া
অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল
থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা
হচ্ছে, মোবাইল ফোন না পাওয়ায় বাবার সঙ্গে অভিমান করে শিক্ষার্থীটি
আত্মহত্যা করেছে। নিহতের বাবা-মা এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করবেন
না। তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন দিয়েছেন। পরবর্তী
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
