মোঃ হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর ।।
দূরত্ব
তাদের আলাদা করে রেখেছিল তিন বছর, কিন্তু ভালোবাসার টান ছিল অবিচ্ছেদ্য।
অবশেষে সেই ভালোবাসার টানই তাদের নিয়ে গেল এক মর্মান্তিক পরিণতির দিকে।
দেশে প্রেমিকার আত্মহত্যার খবর শুনে দূর পরবাসে নিজের জীবন বিসর্জন দিলেন
প্রেমিকও। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণের এমন আত্মহননের ঘটনায়
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নে নেমে এসেছে গভীর শোকের
ছায়া।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা
বাজার থানাধীন ও পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের খুরশিদ মিয়ার
মেয়ে মহিমা আক্তার (১৭) এবং পাশ্ববর্তী নবীয়াবাদ গ্রামের জিতন মিয়ার ছেলে
হাসান মিয়ার (২২) মধ্যে দীর্ঘ ৩ বছর যাবত প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মহিমা
নবীয়াবাদ মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন এবং হাসান গত ১ বছর ধরে
সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
দুই জনেই একে অপরকে বিয়ে করতে রাজি থাকলেও বাঁধ
সাধে হাসানের পরিবার। হাসানের বাবা এই বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে অভিমানে গত
বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়িতে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন মহিমা আক্তার।
এদিকে,
প্রিয়তমার মৃত্যুর এই নিষ্ঠুর খবরটি যখন সৌদি আরবে পৌঁছায়, তখন তা সহ্য
করতে পারেননি হাসান। প্রেমিকার মৃত্যুর শোক ও বিচ্ছেদ সহ্য করতে না পেরে
পরদিন শুক্রবার রাতে সৌদি আরবে নিজের বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন
২২ বছর বয়সী এই যুবক।
স্বজনরা জানায়, একে অপরকে ভালোবেসে ঘর বাঁধার
স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। কিন্তু পরিবারের অমিল সেই স্বপ্নকে চিরতরে ভেঙে
দিল। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দুটি তাজা প্রাণের এমন অকাল ও করুণ বিদায়
কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় এলাকাবাসী। দুই পরিবারেই এখন চলছে
মাতম।
এ বিষয়ে নিহত মহিমা আক্তারের বাবা খুরশিদ মিয়া ও নিহত হাসান মিয়ার
বাবা জিতন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা আত্মহত্যার ঘটনা দুটি স্বীকার
করলেও প্রেমঘটিত বিষয়টি জানেন না।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম পারভেজ জানান, বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি।
বাংগরা বাজার থানার ওসি শফিউল আলম জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রবাসে থাকা হাসানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
