শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬
১২ আষাঢ় ১৪৩৩
কতিপয় অসাধু ব্যক্তির স্বার্থেধ্বংসের পথে যুব সমাজ
চৌদ্দগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাত বাড়ালেই মাদক
মোঃ এমদাদ উল্যাহ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১:২৪ এএম |


চৌদ্দগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাত বাড়ালেই মাদক কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মাদক। ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া থাকার পরও মাদক কিভাবে বাংলাদেশে আসছে?-এমন প্রশ্ন সবার। তবে কতিপয় অসাধু বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যের সহযোগিতায় মাদকসহ ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত। চৌদ্দগ্রামের সাত ইউনিয়নের ৪৪ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা। অপরদিকে সীমান্তের দেড়’শ থেকে পাঁচশ গজের মধ্যে দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয়রা মাদকসহ বিভিন্ন দ্রব্য পাচার করে দেয়। বিনিময়ে তারা নিয়ে যায় বাংলাদেশের মাছ ও আলুসহ বিভিন্ন মূল্যবান পণ্য সামগ্রী। এজন্য রাতের বেলায় চৌদ্দগ্রামের ৪৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা চোরকারবারিদের দখলে থাকে। 
অভিযোগ উঠেছে, চোরাকারবারিরা সীমান্তরক্ষী বিজিবিকে ভূয়া ইনফরমেশন দিয়ে অন্য স্পটে রেখে অনায়াসে পাচার কাজ চালায়। 
স্থানীয়রা জানায়, ২১ বছর আগে ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় কাঁটা তারের বেড়া ছিল না। তখনও বাংলাদেশের ট্রাক ভারতের ভিতরে ঢুকে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য নিয়ে আসতো। এখন আর ট্রাক যেতে না পারলেও মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য পণ্য আদান প্রদানের ঘটনা অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক কথায়- ভারতের কাঁটা তারের বেড়ার গেইট দিয়ে বাংলাদেশে মাদকের চালান আসা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর অর্ধ শতাধিক সংঘবদ্ধ চক্র মাদক ব্যবসা ও পাচার কাজে জড়িত রয়েছে। 
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, ২০০৫ সালের মাঝামাঝি সময় ভারত সরকার তাদের নিজস্ব সীমান্ত এলাকার ১৫০ গজ ভিতরে কাঁটা তারের বেড়া দেয়। ওই ১৫০ গজ সীমানার ফসল আনা-নেয়ার জন্য দুই কিলোমিটার পর পর গেইট রাখা হয়। প্রত্যেক গেইটের পাশে রয়েছে একটি দ্বোতলা ঘর। যা ওয়াচ টাওয়ার নামে পরিচিত। ওই টাওয়ার থেকে প্রতিদিনই পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। অপরদিকে বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিদেরও গেইট পাশ্ববর্তী এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও পাহাড়া দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা পাহারা থাকা সত্ত্বেও রহসজন্যক কারণে ভারত থেকে অবাধে আসছে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদব্য। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় চৌদ্দগ্রামের মাদক নিয়ে বহুবার সংবাদ প্রকাশ করা হলেও মাদক পাচার কিছুতেই কমেনি। বরং মাদক পাচার উদ্বেগজনক হারে আরও বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। 
বিভিন্ন সূত্রে ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, যে সমস্ত গেইট সোজা বাংলাদেশের রাস্তা আছে সে সকল গেইট দিয়ে সবচেয়ে বেশী মাদকদ্রব্য আসছে। সেগুলো হলো; আলকরা ইউনিয়নের দত্তসার, সোনাইছা, কাইচ্ছুটি, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া, বেতিয়ারা, জগন্নাথ, চিওড়া ইউনিয়নের ডিমাতলী, সুজাতপুর, বাতিসা ইউনিয়নের কালিকাপুর, আনন্দপুর, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার জামে মসজিদ রোড, রামরায়গ্রাম, ঘোলপাশা ইউনিয়নের মতিয়াতলী, আমানগন্ডা, বাবুর্চি বাজার, কালিকাপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর, মিরশান্নী, উজিরপুর ইউনিয়নের চকলক্ষীপুর, জগমোহনপুর ও শিবের বাজার। 
ইতোপূর্বে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ সীমান্তরক্ষী বিজিবির কয়েকজন লাইনম্যানের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আটক করেছে। তবে বিজিবি দাবি করেছে- তাদের কোন লাইনম্যান নেই। আবার কয়েক বছর আগে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ কর্তৃক বিভিন্ন সময় আটককৃত ফেনসিডিলের কিছু অংশ বিক্রির উদ্দেশ্যে চৌদ্দগ্রাম বাজারে একটি দোকানে রাখার অভিযোগে জেলা ডিবি পুলিশ এক এএসআইকে গ্রেফতার করেছিল। 
মাদকদ্রব্য পাচার ও আটকের বিষয়ে কথা বলতে গেলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিজিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিজিবির সদস্য সংখ্যা কম ও ভারতীয় বিএসএফ গেইট দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচারের সুযোগ দেওয়া কারণে মাদকদ্রব্য পাচার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না। অপরদিকে বিজিবির ওই কর্মকর্তারা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে থানায় মামলা থাকলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার না করায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। 
অপরদিকে যখনই যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন মাদকের সাথে জড়িতরা ওই সরকার বা এমপির সেজে এলাকায় প্রভাব খাটায়। ফলে মাদকে জড়িতদের হাতে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা লাঞ্চিত এবং হয়রানীর শিকার হচ্ছে। বর্তমান সময়েও ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় দিয়ে কতিপয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নির্ধিদ্বায় মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে। অবশ্য জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের এমপি সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন। তারপরও কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না মাদক ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা। 
সচেতন মহল জানায়, মাদকসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তাদের কোন দল নেই। সুবিধা আদায়ের জন্য দলের পরিচয় বহন করলে তারা কোন দলেরই নেতা নয়।
চৌদ্দগ্রাম থানার কয়েকজন উপ-পরিদর্শক জানান, মাদকদ্রব্য মূলত ভারত থেকেই বাংলাদেশে আসে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির অনেকটা অসচেতনতার কারণেই মাদকের সয়লাব হয়েছে। তাছাড়া মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম এলাকাটি দীর্ঘ হওয়ার কারণে এবং মাদক ব্যবসায়ীরা পাচারকাজে উন্নতমানের গাড়ি ব্যবহার করায় পুলিশের পুরাতন গাড়ি দিয়ে ধাওয়া করে তাদেরকে ধরা সম্ভব হয় না। তাছাড়া পুলিশ প্রায় প্রতিদিনই মাদকসহ ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের আটক করছে। গত কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ অন্তত ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। 

















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লা সীমান্তের অর্ধশতাধিক এলাকা দিয়ে ঢুকছে মাদক
কাটাবিলে মাদক ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে ষষ্ঠ শ্রেণিরশিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ
কুমিল্লায় ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার
কুমিল্লার মুরাদনগরে হত্যা মামলার আসামির স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা
গোমতীর বেরিবাঁধ সড়কে দুই শতাধিক সোলার লাইট চুরি
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা, বাদীর পরিচয় নিয়ে বিতর্ক
কুমিল্লায় দুর্ঘটনার কবলে দুই ট্রেন
দশক শ্রেণীর ছাত্র দিয়ে এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে তোলপাড়, তদন্ত কমিটি গঠন
লাকসামে ৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে নিপীড়নের মামলায় ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তি গ্রেপ্তার
মুরাদনগরে কারখানাকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২