
ছুটি
কাটাতে নিজের গ্রামে গিয়েছিলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার
(ভূমি) সাকিব হাসান খান। কিন্তু কে জানত, নিজ এলাকাতেই একদল সশস্ত্র
ডাকাতের মুখোমুখি হতে হবে তাকে? লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে বন্ধুদের সাথে একটু
স্বস্তির খোঁজে গল্প করার সময় হঠাৎ নেমে আসে নরকীয় হামলা।
নারায়ণগঞ্জের
আড়াইহাজার উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের ধন্দী এলাকায় শুক্রবার রাতের এই নৃশংস
হামলায় এসিল্যান্ডসহ মোট ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত
হয়নি ডাকাত দল, এর ঠিক এক ঘণ্টা পর পাশের আরেকটি বাড়িতে হানা দিয়ে লুটে
নিয়েছে লাখ টাকা ও ভরির পর ভরি স্বর্ণালংকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,
শুক্রবার রাতে তীব্র গরমে বিদ্যুৎ ছিল না ধন্দী এলাকায়। একটু বাতাসের আশায়
এসিল্যান্ড সাকিব হাসান খাঁন তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে রাস্তার পাশে বসে
গল্প করছিলেন। রাত তখন গভীর। আচমকাই অন্ধকারে হানা দেয় ১০ থেকে ১২ জনের
একটি সশস্ত্র ডাকাত দল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি
কোপাতে শুরু করে তারা। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এসিল্যান্ড সাকিব
ছাড়াও গুরুতর জখম হন মুকুল (৩৮), রাজিব (৩২), রুবেল (৩৬), ফারুক (৩২) এবং
মুকুলের স্ত্রী ডালিয়া (৩৩)। চিৎকার শুনে গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে
ছুটে এলে ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে
প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি
হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়।
প্রথম হামলার
রেশ কাটতে না কাটতেই প্রায় এক ঘণ্টা পর পাশের রাইনাদী-আতাদী এলাকায় সুমন
নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দেয় একই ডাকাত দল। সেখানে সুমন ও তার
পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলা হয়। বাধা দিলে মেরে ফেলার
হুমকি দিয়ে ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১৪ ভরি
স্বর্ণালংকার লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
আড়াইহাজার
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে
জানান, খবর পেয়ে দ্রুতই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের
শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই
মামলা রজু করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।
