নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার আলোচিত সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি, নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়ের জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ (চতুর্থ) আদালতের বিচারক মো. সামছুল আলম দীর্ঘ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানিতে বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট মো. শরীফুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট তাফসীরুল আলম এবং রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত জেলা পিপি মো. মোস্তফা জামান জসিম ও মো. ইকরাম হোসেনসহ একাধিক আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদ সালাউদ্দিনসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের পক্ষে বক্তব্য দেন।
শুনানির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক ও বাদানুবাদে আদালতের পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিচারক সবাইকে সংযত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত ফারিহার বাবা ও মামলার বাদী মো. হানিফ এবং মা কোহিনূর বেগম।
এর আগে গত ১০ মে কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মেহেদী হাসান হৃদয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হক তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ২০ মে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে কারাগারে থাকা অবস্থায় একবার জামিন আবেদন করলেও সেটি নামঞ্জুর হয়। সর্বশেষ জেলা জজ আদালতেও তার জামিন আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
মামলার ফাইলিং আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাফসীরুল আলম বলেন, “ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আমরা আদালতের কাছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। আদালতের এ আদেশ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
তিনি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত ফারিহার বাবা মো. হানিফ ও মা কোহিনূর বেগম বলেন, তারা তাদের মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চান এবং মামলার শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
যে ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন:
গত ৫ মে রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামের একটি বহুতল ভবনে স্বামী ও শ্বশুরের ফ্ল্যাট থেকে ফারিহার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ফারিহা কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর উভয় পরিবারের সম্মতিতে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা আবদুর রহিমের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে ফারিহার বিয়ে হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই টাকা দিতে না পারায় ফারিহাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এসব নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
