কুমিল্লার
মনোহরগঞ্জ উপজেলার ভোগই আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ভোগই বাজারের সরকারি
খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। এর ফলে
খাল পুনঃখনন প্রকল্প মারাত্মক জটিলতার মুখে পড়েছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার
স্বাভাবিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, এছাড়া আসন্ন বর্ষায় তীব্র জলাবদ্ধতা ও
পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি দেখছেন স্থানীয়রা। দ্রুত এই অবৈধ স্থাপনাগুলো
উচ্ছেদ করে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট
সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী খাল খনন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মনোহরগঞ্জ উপজেলার মানিকমুড়া থেকে
ভোগই ও কাঁচি হয়ে নদনা পর্যন্ত ০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল পুনঃখননের কাজ
চলছে। এই প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভোগই বাজার
এলাকায় এসে থমকে গেছে পুরো কার্যক্রম।
সরকারি নকশায় খালের অস্তিত্ব
থাকলেও বাস্তবে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি খাল ভরাট করে পাকা ও
আধা-পাকা অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। ফলে খননকাজের স্কেভেটর (মাটি কাটার
যন্ত্র) ওই অংশে প্রবেশ করতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,
খালের পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ না করে কেবল খণ্ডিতভাবে খনন
করলে এই প্রকল্পের কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। দীর্ঘমেয়াদি সুফলের জন্য খালের
প্রস্থ এবং সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি।
ভোগই আদর্শ উচ্চ
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইলিয়াস ভূঁইয়া জানান এলাকার পানি
নিষ্কাশন ও অবাধ পানি প্রবাহের জন্য এই খালটি খনন করা অত্যন্ত জরুরি। এটি
সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে স্থানীয়রা দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন
এবং কৃষিকাজে সুফল পাবেন। কিন্তু বাজারের অবৈধ দখলদারদের কারণে পুরো
উদ্যোগটি এখন ভেস্তে যেতে বসেছে।"
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী
অফিসার (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি জানান, সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে
প্রশাসন বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, শিগিরই অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ভোগই
বাজারের এই অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হবে। এছাড়া খালের অন্য কোনো অংশও
যদি কারো অবৈধ দখলে থাকে, তবে তাও উচ্ছেদ করে সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার
করা হবে।
প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর এলাকাবাসী দ্রুত উচ্ছেদ অভিযানের
বাস্তবায়ন দেখতে চান। সরকারি খালটি সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার হলে এলাকার
দীর্ঘদিনের সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে-এমনটাই প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর।
