
নানা সমস্যা, সীমাবদ্ধতা আর মানুষের প্রত্যাশার ‘অসম্ভব চাপ’ সামলাতে গিয়ে দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মত তারও মনে হচ্ছে, ২৪ ঘণ্টার বদলে ৪৮ ঘণ্টার হলে হয়ত আরো বেশি কাজ করা যেত।
মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল: “নতুন সরকার, ২০ বছর পরে বিএনপি সরকারে। এই চার মাসে প্রাইম মিনিস্টার হিসেবে আপনি কেমন বোধ করছেন?”
জবাবে
তারেক রহমান বলেন, “এখানে একজন (সাংবাদিক) তার বক্তব্যে বলেছেন, উনি
নির্বাচনের পরে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন, উনি মানুষের চোখে-মুখে যেটা (খুশি)
দেখেছেন, আমার মনে হয় একই জিনিস আমিও দেখেছি।
“এটা নিয়ে অনেকে অনেক রকম
অর্থ করতে পারে। বাট অবশ্যই দায়িত্বের একটা চাপ অসম্ভবভাবে অনুভব করছি।
প্রচুর সমস্যা, প্রচুর লিমিটেশনসৃ অ্যাট দা সেইম টাইম, বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সো অসম্ভব একটা চাপ অনুভব করছি
দায়িত্বে।”
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ভেঙে গতবছর ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন
তারেক রহমান। মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির
চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বেই গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে ২০
বছর পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ
টেনে তারেক রহমান বলেন, “আব্বা একসময় উনার একজন সহকর্মীকে বলেছিলেন, দিনটা
যদি ২৪ ঘণ্টার বদলে ৪৮ ঘণ্টা হত, তাহলে আমরা আরেকটু বেটার কাজ করতে
পারতাম।”
এখন নিজেরও একইরকম উপলব্ধি হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী
বলেন, “কখন অফিসে ঢুকছি, কখন সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছেৃ একটু বুঝতেই পারছি না। দম
ফেলানোর টাইম পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য আমারও মনে হয় যে আসলে ২৪ ঘণ্টা না
হয় যদি ৪৮ ঘণ্টা হত, তাহলে একটু হত।”
‘আমার হাড্ডিটা এখনো বাঁকা’
২০০৭
সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার মত তার ছেলে তারেক রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তাকে
জিজ্ঞাসাবাদের নামে অকথ্য নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
মুক্তি পাওয়ার পর তিনি স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে যান। পরের ১৭ বছর তার সেখানেই নির্বাসিত জীবন কাটে।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, “আমি জেলের মধ্যে থেকে এসেছি, আমি শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি,
মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের চিন্তাটা হল–হ্যাঁ
হয়েছে। আমি অনেক কিছু বলতে পারি যে, আমি এই হারিয়েছি, ওই হারিয়েছি; এ এটার
জন্য দায়ী, সে সেটার জন্য দায়ী।
“এখনো এক্সরে করলে হয়ত দেখা যাবে আমার
পিঠের হাড্ডিটা বাঁকাভাবে একটু লেগে আছে। যেহেতু প্রায় অনেকদিন এটা করে
ফেলে রাখা হয়েছিলৃ প্রপার টাইমে চিকিৎসা করা হয়নি, সেজন্য হয়ত একটু
বাঁকাভাবে রয়ে গিয়েছে। চার সপ্তাহর মধ্যে হাড্ডি জোড়া লেগে যায়।”
তারেক
রহমান বলেন, “এখন যারা এটার জন্য দায়ী, আমি যদিৃ হয়ত সেটা করা আমার জন্য
পসিবল, কিন্তু আমার হাড্ডি তো জোড়া লাগবে না, আমি এখনো যে পেইনটা মাঝে মাঝে
অনুভব করি, আমার সেই পেইনটা কি চলে যাবে? বন্ধ হয়ে যাবে? তা তো হবে না।
“আমার
মনে হয় সেজন্যই আমাদের এই মাইন্ডসেট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। আপনি এখনো
বেঁচে আছেন, আপনি এখনো চলছেন, আপনি এখনো ফিরছেন, এখনো আপনার পরিবার আপনার
সাথে আছেন। আমাদের চিন্তা করা উচিত এভাবে যে, আমরা এখন কি কন্ট্রিবিউট করতে
পারি ফর দি নেশন, ফর দি কান্ট্রি।
“হ্যাঁ, আমার এই ক্ষতি হয়ে গেছে, এর
রিটার্ন আমার আসবে না। এটা থেকে আমাদের অবস্থান একটু পরিবর্তন করা উচিতৃ এই
কথাটা আপনাদেরকে বলছি। আমাকে দয়া করে সাহায্য করবেন এই কথাটা আমার
নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।”
বিএনপির কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ
সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা
করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
সাংবাদিকদের
পাশাপাশি তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী,
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ
শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর
রহমান রুমন, উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন
স্বাধীন মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভার আগে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মধ্যহ্নভোজে অংশ নেন এবং খোলামেলা আলাপচারিতা করেন।
