ম্যাচের
আগে ঘুরেফিরে আসছিল ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে ফরাসিদের ধরাশায়ী
হওয়ার প্রসঙ্গ। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কিলিয়ান এমবাপের গোল না পাওয়া
নিয়েও হচ্ছিল আলোচনা, ধেয়ে আসতে শুরু করেছিল সমালোচনার তির। ম্যাচের পরও
বিষয় দুটি উঠল। তবে ফ্রান্সের জয়ের নায়ক ‘প্রতিশোধ’ ব্যাপারটিই উড়িয়ে
দিলেন।
ম্যাচের আগে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশমও ঠিক একই কাজ করেন।
সরাসরি বলেন, খেলাধুলায় প্রতিশোধ শব্দটি একদমই পছন্দ নয় তার। আর এমবাপেকে
নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে তো কোচ থেকে শুরু করে তার সতীর্থরা প্রকাশ্যে বেশ
বিরক্তিই প্রকাশ করেন।
উসমান দেম্বেলে যেমন বলেছিলেন, এমবাপেকে নিয়ে সমালোচনা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে।
আর
মাঠে নেমে এমবাপে তো নিজেই সবকিছুর জবাব দিয়ে দিলেন। বিশ্বকাপ অভিযানের
শুরুতে, নিউ জার্সিতে তার জোড়া গোলেই সেনেগালকে ৩-১ ব্যবধানে হারাল
ফ্রান্স। তার দ্বিতীয় গোলটি ছিল অসাধারণ, প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বুলেট গতির
শটে।
ওই গোলে ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা গোলদাতাও হয়ে যান এমবাপে, তার মোট
গোল ৫৮টি। ছাড়িয়ে যান ৫৭ গোল নিয়ে এতদিন শীর্ষে থাকা অলিভিয়ে জিঁরুকে।
বিশ্বকাপের
গোলদাতার তালিকায়ও পেলে, জুস্ত ফঁতেন, লিওনেল মেসিদের ছাড়িয়ে তৃতীয় স্থানে
উঠে আসেন এমবাপে। কয়েক ঘন্টা পরেই অবশ্য হ্যাটট্রিক করে তাকে ছাড়িয়ে
শীর্ষে মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি।
ওই
তালিকায় ওঠানামা হলেও, এমবাপে তার দায়িত্বটা ঠিকমতোই সামলেছেন। দলকে এনে
দিয়েছেন দারুণ শুরু। চুপ করিয়ে দিয়েছেন সমালোচকদের। যদিও ম্যাচ শেষের
প্রতিক্রিয়ায় ফরাসি গণমাধ্যমে তিনি বলেন, ওসব নিয়ে একদমই ভাবেন না তিনি।
“আমি আমার দেশের জন্য ইতিহাস গড়ার চেষ্টা করি। নিশ্চিত করতে চাই যেন আমার দল ফাইনালে ওঠে এবং বিশ্বকাপ জেতে।”
“(সমালোচকদের
বিরুদ্ধে) প্রতিশোধ নেওয়ার কিছু নেই। যারা আমার সমালোচনা করে, তাদের সবার
বিরুদ্ধে (প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য) যদি আমাকে খেলতে হয়, তাহলে আমাকে ৮০ বছর
বয়স পর্যন্ত খেলতে হবে।”
পরের ম্যাচে আগামী সোমবার মাঠে নামবে ফ্রান্স, ফিলাডেলফিয়ায় ইরাকের বিপক্ষে।
