আবাসিক
এলাকা। অথচ সেখানে দিন-রাত জ্বলছে তীব্র আঁচের চুল্লি। সাধারণ মানুষের
আপত্তির মুখেও কোনো এক ‘অদৃশ্য ক্ষমতার’ জোরে চলছিল পাথর পুড়িয়ে চুন তৈরির
কাজ। তবে শেষ রক্ষা আর হলো না। অবশেষে বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল। কোনো বৈধ
লাইন নয়, বরং জাতীয় সম্পদ গ্যাস চুরি করেই চলছিল এই বিশাল কর্মযজ্ঞ।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ফুলপাড়া এলাকায় এমনই এক
অবৈধ চুন তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন
কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলপাড়া
আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার
করে পাথর পুড়িয়ে চুন তৈরি করে আসছিল। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে
স্থানীয় বাজারের আরএফএল ডিলার মামুন মিয়া, বড়শালঘর গ্রামের মোমেন মিয়া এবং
কুলুবাড়ী গ্রামের হাসেম সরকারের ছেলে বিল্লাল সরকারের নাম। আবাসিক এলাকায়
এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও দূষণকারী কারখানা চলায় স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার বাধা
দিয়েছিলেন। কিন্তু চক্রটি তাতে তোয়াক্কাই করেনি। উল্টো প্রতিবাদী সাধারণ
মানুষকে দেওয়া হতো মামলা ও হামলার হুমকি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার
বিকেলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির দেবিদ্বার এরিয়া কার্যালয়ের
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রকৌশলী কাজী আবু ওবায়েদের নেতৃত্বে একটি
‘বিজিলেন্স টিম’ ফুলপাড়ায় হানা দেয়। মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে অবৈধ পাইপ
লাইনের অস্তিত্ব। অভিযান চলাকালে দেখা যায়, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ৫টি
ফার্নেস লাইনের মাধ্যমে সরাসরি গ্যাস চুরি করা হচ্ছিল। কোনো সুযোগ না দিয়ে
গ্যাস ব্যবহারের বিভিন্ন সরঞ্জাম আলামত হিসেবে জব্দ করে টিম।
বিজিডিসিএলের
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রকৌশলী কাজী আবু ওবায়েদ দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে
বলেন, “আমরা চোরাইভাবে গ্যাস ব্যবহার করার সময় তাদের হাতেনাতে ধরেছি।
বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারসহ সকল অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এই চক্রটি
প্রতি মাসে সরকারের প্রায় ১০ লাখ টাকার গ্যাস অপচয় (চুরি) করছিল। দায়ী
ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিধি অনুযায়ী থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া
চলছে।”
এদিকে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে জাতীয় সম্পদ লুটের এই ঘটনায়
নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসনও। মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
আনোয়ার হোসেন খান দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে জানান, বিজিডিসিএলের পক্ষ থেকে
একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। জড়িতদের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায়
স্বস্তি নেমে এসেছে ফুলপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মনে। তবে স্থানীয়দের দাবি,
শুধু সংযোগ বিচ্ছিন্ন নয়, পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদ ধ্বংসকারী এই চক্রের মূল
হোতাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।
