কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার
দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার একদিন পর লাকসামে উদ্ধার হওয়া শিবিরের
কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান ‘আত্মগোপনে’ ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এক নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যায় অভিযুক্ত জিসান নিজেকে ‘বাঁচাতে’
আত্মগোপনের বাহানা করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় তাকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
শনিবার (১৩ জুন) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার
কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো.
আনিসুজ্জামান। গ্রেপ্তার জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের
কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। তিনি শিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম
শাখার সাবেক সভাপতি।
এর আগে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ‘নিঁখোজের’ ২৬
ঘন্টা পর তাকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে উদ্ধার করে লাকসাম ক্রসিং
থানা পুলিশ। শিবির নেতা নিখোঁজ ও উদ্ধারের ঘটনার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক
আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে একে একে জট খুলতে থাকে পুলিশের বিজ্ঞপ্তি ও প্রেস
কনফারেন্সে। পুলিশ সুপার জানান, দাউদকান্দি থেকে শিবির নেতা জিসান প্রধান
অপহৃত হননি। এক নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগ ও বিয়ের চাপ এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায়
আত্মগোপনে ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন,
গত ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান মিয়া
প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন বলে ১২ জুন দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি
(জিডি) করা হয়।
পরে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অপহরণের বিষয়টি ছড়িয়ে
পড়ে। জিসানকে উদ্ধারে জেলা পুলিশের একাধিক দল মাঠে নামে। তদন্তের এক
পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে দাউদকান্দি এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে জিসানের
পরিচয় হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে
প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তিনি জানান, অনুসন্ধানে আমরা জানতে পারি, গত
২০ মে দাউদকান্দি এলাকায় জিসানের ভাড়া বাসায় ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে বিভিন্ন সময়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জিসান তার সঙ্গে
শারীরিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। এক পর্যায়ে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে
জিসান তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। এমনকি গর্ভপাত না করলে
হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রাণনাশের আশঙ্কায়
একসময় তরুণী গর্ভপাত করাতে রাজি হন। এরপর জিসান গর্ভপাতের ওষুধ সংগ্রহ করে
তরুণীকে খাওয়ান। পরবর্তীতে গর্ভপাত হলে, তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে
থাকেন।
পুলিশ সুপার আরো জানান, তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বিয়ের বিষয়ে
চাপের মুখে পড়ে জিসান ১২ জুন বিয়েতে সম্মতি জানান। তবে বিয়ে এড়ানোর
উদ্দেশ্যে ১১ জুন রাত ৮টার পর তিনি নিজেই আত্মগোপনে চলে যান এবং পরবর্তীতে
নিজের নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে স্বজনদের মাধ্যমে থানায় জিডি করান।
পুলিশের
অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে লাকসাম থানা এলাকার স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের
সহযোগিতায় শুক্রবার রাতে আত্মগোপনে থাকা জিসানকে লাকসাম জংশন এলাকা থেকে
উদ্ধার করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগী তরুণী থানায় উপস্থিত হয়ে জিসানকে প্রধান
আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দাউদকান্দি
থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মোট আসামি চারজন। মামলায় ভ্রুণ নষ্টে
সহায়তাকারীদেরও আসামী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার।
