কুমিল্লার
চান্দিনায় অবস্থিত ‘ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট’ নামে একটি পোশাক তৈরির
কারখানা হঠাৎ বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কয়েক
হাজার শ্রমিকসহ অন্তত ৪ হাজার মানুষ বেকার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছি।
দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কপালে।
শুক্রবার (১২ জুন) ‘ডেনিম প্রসেসিং
প্লান্ট’ এর পরিচালক মো. আলমগীর হোসাইন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ওই তথ্য
জানা যায়। শনিবার (১৩ জুন) চান্দিনা উপজেলা সদরের বেলাশহর এলাকার ওই
গার্মেন্টসে গিয়ে প্রধান ফটকে ফ্যাক্টরীটি সাময়িক ভাবে অনির্দিষ্ট কালের
জন্য বন্ধ ঘোষণার নোটিশও দেখা যায়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদের
বন্ধের পর ৬ জুন ফ্যাক্টরী চালু হওয়ার পর থেকে কিছু সংখ্যক শ্রমিক বিনা
নোটিশে, বিনা আলোচনায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রেখে চিৎকার, চেঁচামেচি করে
অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং অন্যায্য দাবী নিয়ে কর্মবিরতি পালন করে।
এতে সাধারণ শ্রমিক আতংকিত হয়ে পড়ে এবং ফ্যাক্টরীর মেশিনারিজ ও সম্পদ
নিরাপত্তার হুমকির মধ্যে পরে। শ্রমিকদের এমন কার্যক্রমে বাংলাদেশ শ্রম আইন
২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা মোতাবেক ‘অবৈধ ধর্মঘট’ হিসেবে গন্য হওয়ায় বিনা বেতনে
পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ
ঘোষণা করা হয়।
শনিবার সরেজমিনে ওই ফ্যাক্টরীতে গিয়ে দেখা যায়,
ফ্যাক্টরী বন্ধের ঘোষণা না জেনে অনেক শ্রমিক এসে ঘুরে যাচ্ছে। ফ্যাক্টরী
বন্ধ থাকায় আশ-পাশের দোকানপাট ও রাস্তাঘাটে নিরব অবস্থা বিরাজ করছে। চায়ের
দোকান থেকে শুরু করে ভাতের হোটেল ও অন্যান্য দোকানীরা অলস সময় অতিক্রম
করছেন।
ফ্যাক্টরীর একাধিক কর্মকর্তা জানান- আমরা এপ্রিল মাসের বেতন ও
অর্ধেক বোনাস পরিশোধ করে ঈদের ছুটি দিয়েছি। ৬ জুন ঈদের ছুটি শেষে শ্রমিকরা
কাজে যোগ দেয়ার পর বাকি অর্ধেক বোনাস প্রদান করি। কিন্তু শ্রমিকরা মে মাসের
বেতনের দাবীতে ফ্যাক্টরীর কর্মকর্তাদের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে।
ফ্যাক্টরীর মালিক বলেছেন, ‘২৫ জুন একটি শিপমেন্ট আছে, শিপমেন্ট দেয়ার পর ৩০
জুন বেতন পরিশোধ করা হবে’। কিন্তু শ্রমিকরা কারও কোন কথা না শুনেই আন্দোলন
শুরু করে এবং কর্মবিরতি চালায়। এদিকে, ২৫ জুন শিপমেন্ট দিতে না পারলে
কোম্পানীর বড় আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। শুক্রবার গার্মেন্টস
বন্ধ ঘোষণার পর রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত সকল মালামাল অন্য কোম্পানিতে সরিয়ে
নিয়ে শিপমেন্টের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা
জানান- আগে ওই ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা ৩/৪ মাসের বেতন বকেয়া থাকতো। বর্তমানে
তেমন থাকে না। কয়েকজন শ্রমিক অযথা ঝামেলা সৃষ্টি করায় মালিক বন্ধ ঘোষণা
করতে বাধ্য হয়।
একাধিক শ্রমিক জানান- আমরা আন্দোলন বুঝিনা, এখানে কাজ
করে সংসার চালাই। সমিতি থেকে ঋণ করে রেখেছি, সপ্তাহে বা মাসিক কিস্তি
পরিশোধ করতে হয়। ফ্যাক্টরী বন্ধ হলে আমরা কি করবো? কোথায় যাবো? আমাদের
সংসার চলবে কিভাবে বা কিস্তি দিবো কিভাবে?
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল
মালেক জানান- ২০০৪ সালে এ অঞ্চলে ফ্যাক্টরী চালু হওয়ার পর থেকে কয়েক হাজার
মানুষ এ এলাকায় এসে বসবাস করে। ফ্যাক্টরীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অনেক
দোকান-পাট, বাসা-বাড়ি। ফ্যাক্টরী বন্ধ হলে ৩ হাজার শ্রমিকের পাশাপাশি বেকার
হয়ে পড়বে আরও অন্তত এক হাজার পরিবার।
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার
(ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান- বিষয়টি আমি জেনেছি। ২/১ দিনের মধ্যেই
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমি গার্মেন্টসটির মালিক ও শ্রমিকদের
নিয়ে বসে আলোচনা করবো এবং গার্মেন্টসটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে কথা বলবো।
