ইসমাইল নয়ন।।
তীব্র
গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বাড়ছে বিভিন্ন
ধরনের মৌসুমি রোগ। বিশেষ করে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি, পানিশূন্যতা,
চর্মরোগ এবং হিটজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা গত কয়েক সপ্তাহে
উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন
বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীর চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা
নিতে আসা রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে গরমজনিত
স্বাস্থ্য সমস্যার প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া,
সর্দি-কাশি এবং জ্বর নিয়ে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কেউ কেউ
অন্তবিভাগে ভর্তি থেকেও চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি এসব রোগীর মধ্যে
দেশব্যাপী চলমান হামের উপসর্গের রোগীও রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ, জরুরি ও অন্তবিভাগ এবং বেসরকারি
কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র গরমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা
থেকে মৌসুমি নানা রোগ নিয়ে রোগী ও রোগীর স্বজনরা ভিড় করছেন উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই
শিশু ও বয়স্ক মানুষ। স্বাস্থ্য জটিলতার ওপর নির্ভর করে কেউ চিকিৎসা নিয়ে
বাড়ি যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উপজেলার
শিদলাই এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম তার চার বছর বয়সী অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে এসেছেন। তিনি বলেন, গত কিছুদিন
ধরে ছেলেটার জ্বর, পাতলা পায়খানা, বমি হচ্ছিল। ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে
খাওয়ানোর পরও তেমন প্রতিকার পাইনি। তার শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ায় হাসপাতালে
নিয়ে আসি। ডাক্তার বলেছেন গরমের কারণেই এ সমস্যা হয়েছে। তাকে ভর্তি রাখার
পরামর্শ দিয়েছেন।
উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ এলাকা থেকে উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছেন বিলকিস আক্তার ও
তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মুনতাহা। তারা দুজনেই জ্বরে আক্রান্ত। তিনি বলেন,
প্রচণ্ড গরমে কয়েকদিন ধরে জ্বর ও মাথা ঘোরার মতো সমস্যায় ভুগছি। মেয়েটারও
জ্বর ছেড়ে ছেড়ে আসছে। বহির্বিভাগ থেকে টিকিট কেটেছি, ডাক্তার দেখাবো।
উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. অরূপ সিংহ বলেন, বর্তমানে
ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও মৌসুমি ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরমে শরীর
দ্রুত পানি হারায়, ফলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য-জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এ
সময়টায় বিশুদ্ধ পানি পান, নিরাপদ খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে চলাচল
না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার
পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, গরমের কারণে
রোগীর চাপ কিছুটা বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয়
চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের
সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে মৌসুমি রোগের প্রকোপ
চলছে। এছাড়া একই সময়ে হাম-রুবেলার সংক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তীব্র গরমে
অনেকেই রাস্তাঘাটে বিভিন্ন ধরনের শরবত পান করছেন। এর ফলে ডায়রিয়া এবং
'হেপাটাইটিস এ' রোগসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য
কর্মকর্তা আরও বলেন, এজন্য এ সময়টায় জনসাধারণকে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ,
পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান, খোলা ও বাসি খাবার পরিহার এবং বয়স্ক ও শিশুদের
প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হামের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে বা
তীব্র গরমে হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করলে দেরি না করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্স অথবা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
