নিজস্ব
প্রতিবেদক: কুমিল্লা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পলাতক বাহাউদ্দীন
বাহার-এর কথিত মাদরাসাবিরোধী বক্তব্য এবং কুমিল্লার জনগণের প্রতি হুমকিমূলক
মন্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে কুমিল্লা জেলা কওমি মাদরাসা
সংগঠন, মহানগর শাখা। সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্যকে ধর্মীয় মূল্যবোধ, শিক্ষা
ব্যবস্থা ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও
প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে
বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কুমিল্লা
প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি মুফতি শানছুল ইসলাম
জিলানী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আলেম-উলামা,
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কুমিল্লা জেলা কওমী মাদ্রাসা সংগঠনের যুগ্ন
সেক্রেটারী ও মহানগর সেক্রেটারী মুফতী শামছুল ইসলাম জিলানী বলেন, সম্প্রতি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি টকশোতে বাহাউদ্দীন বাহার দেশের
ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন
বলে তারা জানতে পেরেছেন। পাশাপাশি তিনি কুমিল্লার জনগণের প্রতিও উসকানিমূলক
ও হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের
মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিক গুণাবলি
এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
রাষ্ট্র স্বীকৃত এ শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোটি কোটি
মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি
করেন, মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক বিভাজন
সৃষ্টি করতে পারে এবং জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর। তারা বলেন,
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কোনো ব্যক্তি যদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা
ব্যবস্থা বা জনগণের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, তাহলে তা
জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অতীতে
কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে বাহাউদ্দীন বাহারকে ঘিরে নানা বিতর্ক ছিল। তারা
তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, জনগণ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করেও তিনি বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক
বক্তব্য দিয়ে জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে তাদের দাবি।
সংবাদ
সম্মেলন থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে তদন্ত, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত
হানে এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং
বাহাউদ্দীন বাহার দেশের বাইরে অবস্থান করে থাকলে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা
ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা।
সংগঠনের
নেতারা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ ঘটনার
প্রতিকার চাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে
বলে আমরা আশা করি।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের
ধর্মীয় সম্প্রীতি, শিক্ষাব্যবস্থার মর্যাদা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায়
রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
এসময় উপস্থিত
ছিলেন সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আঃ কুদ্দুস। সভাপতিত্ব করেন ও দুআ করেন
সংগঠনের সহ-সভাপতি ও মহানগর সভাপতি হাঃ মাও মুনীর হুসাইন ।
আরো উপস্থিত
ছিলেন সুপরিচিত মাও আনিসুর রহমান আশরাফী, হাঃ আজীজুল হক , মাও তৈয়ব , মাও
খলীলুর রহমান, ( সভাপতি আসলে সুন্নত ওয়াল জামাত ইমাম পরিষদ) মাও আবুল
কাশেম, জনাব আবু তাহেরসহ জেলার বিভিন্ন স্তরের উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী
জনতা।
