নিজস্ব প্রতিবেদক: এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সাধারণ এবং ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি স্বাবলম্বী ও কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কুমিল্লায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ‘বামইল দারুল কোরআন হাফিজিয়া মাদরাসা, এতিমখানা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’-এ বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে এই ভোকেশনাল কোর্সের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পবিত্র কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স এবং সেলাইয়ের মতো বিভিন্ন আধুনিক ও বৃত্তিমূলক কাজে দক্ষ হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে, যা তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
প্রতিষ্ঠানটির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বামইল দারুল কোরআন হাফিজিয়া মাদরাসা, এতিমখানা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সভাপতি ও মোতাওয়াল্লী ডা. শরীফ আহাম্মেদ চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোঃ আজিজুল হাকিম, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ শাহ্ আলম ভূঞা, মোঃ আবু তাহের, মোঃ রফিকুন ইসলাম, মোঃ রদিছন ইসলাম, আইনুল কবির ভেন্ডার, মোঃ মহিউদ্দিন নিটন ও মোঃ বজলুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. শরীফ আহাম্মেদ চৌধুরী মহান আল্লাহর সৃষ্টিতত্ত্ব, প্রকৃতির নানা নিয়ামত এবং বাংলাদেশের অফুরন্ত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সূর্যের আলো থেকে তৈরি অক্সিজেন এবং ভিটামিন-ডি মানবজাতির বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। মহান আল্লাহ আমাদের এই অক্সিজেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দান করেছেন। পাশাপাশি বিশ্বের অনেক দেশে নদী না থাকলেও আমাদের বাংলাদেশ মিঠা পানির এক সমৃদ্ধ নদীমাতৃক দেশ। এই মাদ্রাসার পাশেই বয়ে চলা গোমতী নদী ও এর মৎস্যসম্পদ আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত।”
তিনি দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের তাগিদ দিয়ে আরও বলেন, “আমাদের উর্বর ভূমি ও বিপুল জনবল দেশের বড় শক্তি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে আজ বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশ্বের বহু দেশ আজ আমাদের ওপর নির্ভরশীল।”
মাদ্রাসার এই নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ডা. শরীফ আহাম্মেদ চৌধুরী বলেন, “এতসব নিয়ামতের শুকরিয়াস্বরূপ আমাদের নিয়মিত ইবাদত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা উচিত। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে সমাজে আয়বর্ধক পেশাজীবী তৈরি হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং একটি ধর্মপ্রাণ, দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তি গড়ে উঠবে।”
অনুষ্ঠান শেষে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
