
ফিফা
বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আগেই মাঠের বাইরে শুরু হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা।
বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে
নিজেদের মাটিতে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে অন্যতম আয়োজক দেশ মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এমন কঠোর অবস্থানের পর বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ
নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেক্সিকো সরকারের শরণাপন্ন হয়। অবশেষে রাজি হয়েছে
মেক্সিকো।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম সোমবার
আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বকাপ চলাকালীন ইরান ফুটবল দলকে আতিথ্য
দিতে সানন্দে রাজি হয়েছে তার দেশ।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রুপ
পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নির্ধারিত থাকলেও
ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দেয়, তারা টুর্নামেন্ট চলাকালীন ইরানি বহরকে তাদের
ভূখণ্ডে অবস্থান করতে দিতে চায় না।
মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া
শিনবাউম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুরো টুর্নামেন্টে
ইরানের স্কোয়াডকে তাদের দেশে রাখতে চায়নি। এরপরই ফিফা আমাদের সরকারের সাথে
যোগাযোগ করে। মেক্সিকোতে ইরান দলের অবস্থান করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করার
কোনো কারণ আমাদের নেই।’
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজ
নিশ্চিত করেছেন যে, ফিফার অনুমোদন নিয়েই তারা তাদের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্প
অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর টিহুয়ানাতে নিয়ে যাচ্ছেন।
ফেডারেশন
প্রধান জানান, এই স্থানান্তরের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-সম্পর্কিত
জটিলতা এবং খেলোয়াড়-স্টাফদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এড়ানো সম্ভব হবে। টিহুয়ানা
শহরটি মার্কিন সীমান্তের একেবারে কাছে হওয়ায় এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের দূরত্ব
ফ্লাইটে এক ঘণ্টারও কম হওয়ায় ইরান দল মেক্সিকোতে অবস্থান করেই
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলে আসতে পারবে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সামরিক সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের চরম
উত্তেজনার পর থেকেই বিশ্বকাপে ‘টিম মেলি’র অংশগ্রহণ নিয়ে এক প্রকার
অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সব রাজনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে মেক্সিকোর
আশ্রয়ে বিশ্বকাপে মাঠে নামছে ইরান।
