বুধবার ১০ জুন ২০২৬
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা।।
সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য শাহিন কুয়েতে পালিয়েছেন
আবুল কাশেম হৃদয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১:০৫ এএম আপডেট: ১৯.০৫.২০২৬ ১:৪৩ এএম |


সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য  শাহিন কুয়েতে পালিয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজন আসামি সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলম দেশ ছেড়েছেন। তিনি পালিয়েছেন কুয়েতে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলায় গতি আসার খবরে দেশ ছেড়ে পালান তিনি। শাহিন আলম কুমিল্লা সেনানিবাসের ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের সৈনিক ছিলেন। চাকরির খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে নিজ এলাকা কুমিল্লার বুড়িচংয়ের গোবিন্দপুরে গড়ে তোলেন গরুর বড় একটি খামার। দোকান দেন গোবিন্দপুর এলাকার বাজারে। তার দোকান ও ফার্মের নাম ‘মেসার্স সুমাইয়া এগ্রো’। দেশ ছাড়ার পর দোকানটি বন্ধ হয়ে গেলে ভাড়া নিয়ে নেয় অন্য একটি পক্ষ।
কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলাম তদন্তকালে যে তিনজন সাবেক সেনাসদস্যের নাম কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুমিনুল হকের আদালতে দাখিল করেছেন, সেখানে শাহিন আলমের নাম তিন নম্বরে রয়েছে। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য আদালত অনুমতি দিয়েছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আসার কারণ হিসেবে শাহিন আলম শারীরিক ‘আনফিট’ থাকার কথা এলাকাবাসীর কাছে প্রচার করেন। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গোমতী নদীপাড়-সংলগ্ন গোবিন্দপুর গ্রামে দেন গরুর খামার। সেখানে ১০টির বেশি গরু ছিল। আর দোকানটিতে গোখাদ্য বিক্রি করতেন। তার বাবা সরদার ফরিদ উদ্দিন ছিলেন গোবিন্দপুর খেয়াঘাটের মাঝি। ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে শাহিন বড়। তার এক ভাই ব্যাংকে চাকরি করেন। আরেক ভাই কুমিল্লা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার। এখন তারা অবস্থানসম্পন্ন। পলাতক শাহিন আলম বিবাহিত।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. শাহিন আলমের পাসপোর্ট নম্বর: অ১৫...১১৬৯। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরই (০১৭২৫..১৯৯০ ও ০১৭১২..৫৯৯৯) বন্ধ পাওয়া যায়। গত ২১ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলাম কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুমিনুল হকের আদালতে শাহিন আলমের বহিগমন ও আগমনের সময় আটক এবং তার সম্পর্কে তথ্য প্রদানের জন্য অনুমতি চান। জানা গেছে, শাহিন আলমের মোবাইল নম্বরগুলোর সর্বশেষ লোকেশন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত দেখা যায়। এরপর আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরীকুল ইসলাম কুমিল্লার কাগজকে বলেন, সন্দেহভাজন আসামী শাহিন আলমের অবস্থান সম্পর্কে আমরা পুরোপরি নিশ্চিত হতে পারি না। তার অবস্থান সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে পারলে গণমাধ্যমকে জানাবো। আমরা চাই একটি বড় সাফল্য নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলবো। 
গতকাল সোমবার দৈনিক কুমিল্লার কাগজে কলেজছাত্রী তনু হত্যা মামলা নিয়ে এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর এবং প্রতিবেদনে শাহিন আলমের নাম থাকায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী তার সেনাবাহিনী থেকে চাকরি ছাড়া ও গরুর ফার্ম দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে থাকেন।
কলেজছাত্রী তনু হত্যার পর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কিছুটা তদন্ত করে। কিন্তু সে সময় অপ্রাসঙ্গিক অনেকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করলেও নিহত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন যাদের সন্দেহ করতেন এবং যাদের নাম গণমাধ্যমেরকাছে বারবার বলেছেন, তাদের কারও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বরাবরই অভিযোগ করেছেন, সিআইডি মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের হয়রানির পাশাপাশি তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লার কাগজকে জানান, ‘যাদের নাম আমি বারবার বলেছি সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তারা কাউকেই সামনে আনে নি। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে নি।  সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক জাহিদের কথা বলেছি। অন্তত তাদের নমুনা সংগ্রহ করতো। তারা তা করে নি। আরো অনেকের নাম বলেছি। সেগুলোও সন্দেহের তালিকায় আনে নি। আমার মেয়ে যাদের সাথে নাটক করতো তাদেরকে এনেছে। কি আর বলবো? ’
জানা গেছে, ২০১৬ সালে তদন্ত কর্মকর্তারা অন্তত ১৩ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ডিএনএ ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশে পাঠিয়েছেন। সেখানকার ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের ৬ পাতার প্রতিবেদনে এই ১৩ জনের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সোহাগী জাহান তনুর কাপড়ে পাওয়া পুরুষের ডিএনএর মিল না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সে সময় যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল তারা হলেন- মাহামুদুল হাসান, মহাইমিনুল ইসলাম জিলানী, মেহেদী হাসান মুরাদ, মিজানুর রহমান সোহাগ, রকিবুল ইসলাম, রুবেল আহমেদ, সৈয়দ সাইফুল ইসলাম, শেখ পেয়ার আহমেদ, নুর আলম বাপ্পী, সোহেল রানা, ওয়ালী উল্লাহ হৃদয়, নুরুল আজম ও মোজ্জামেল হোসাইন। এদের মধ্যে ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্যও আছেন, যে সংগঠনে তনু নাট্যকর্মী ছিলেন। সে সময়ই তনুর বাবা অভিযোগ করে বলেছিলেন, “আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে সেনানিবাসের ভেতরে। আর তারা সেনানিবাসের বাইরের লোকদের নমুনা সংগ্রহ করে। ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের ছেলেদের হয়রানি করে।” পরে এই নমুনা সংগ্রহ বন্ধ হয়েছিল। 
তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের সে সময়ের অভিযোগের প্রমাণ মেলে সম্প্রতি প্রাপ্ত ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের ছয় পাতার প্রতিবেদনে। তিনি লিখেছেন, ডিএনএ নমুনা নেওয়া এই ব্যক্তিদের ডিএনএর সঙ্গে আলামতগুলোতে পাওয়া ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি।


















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
নগরভবন নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হলে ফেরত যাবে ১২৫ কোটি টাকা
কুমিল্লায় বিক্ষোভ মিছিল কুশপুত্তলিকায় আগুন, জুতা নিক্ষেপ
কুমিল্লায় পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাংচুর তিন পুলিশসহ আহত ৪, আটক ১
বন্ধ হচ্ছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আমানতকারী পাবেন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা
বরুড়ার সোনাইমুড়ী ২০ শয্যা হসপিটাল নতুন নামকরণ করে চালুর ঘোষণা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সাবেক এমপি বাহারের বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন
বরুড়ার সোনাইমুড়ী ২০ শয্যা হসপিটাল নতুন নামকরণ করে চালুর ঘোষণা
সংসদে কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর দাবি এমপি মনির চৌধুরীর
নগরভবন বর্তমান স্থানেই চায় কুমিল্লার মানুষ
লালমাইয়ের প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, স্বর্ণালংকার লুট
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২