# ২৭ মাসে জেলায় ১২৩৮২ মামলার ৭৬ ভাগ নিস্পত্তি
# ‘গ্রাম আদালত’ সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় বঞ্চিত অনেকে
‘অল্প
সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চল যাই গ্রাম আদালতে’-এ প্রতিপাদ্যে
গত কয়েক বছর ধরে সারাদেশেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইউনিয়ন ভিত্তিক গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চলছে। ২০২৪
সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের গত এপ্রিল পর্যন্ত ২৭ মাসে কুমিল্লা জেলায়
গ্রাম আদালতে ১২৩৮২টি মামলা দায়েরের পর ৭৫.৭৪ ভাগ নিস্পত্তি করা হয়েছে।
এরমধ্যে উচ্চতর আদালত থেকে প্রেরিত মামলা ১৩১৫টি। মামলাগুলোর মধ্যে ৯৪.৮৩
ভাগ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও ১৪ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ২৮৫ টাকা ক্ষতিপূরণ
আদায় করা হয়েছে। মামলায় ৪২৪৩ জন নারী আবেদনকারী ও বিচার প্রক্রিয়ায় ১৫ ভাগ
নারী অংশগ্রহণ করেছে। এক কথায়, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে সুফল পাচ্ছেন
তৃণমূলের অসহায় পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়
‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক
কর্মশালা’য় এসব তথ্য উত্থাপন করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায়
প্রকল্পের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ মোহর আলী।
কর্মশালায়
প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন। গ্রাম আদালত
সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমন্বয়কারী অমল দাশ ও মোঃ
মোহর আলীর যৌথ সঞ্চালনায় কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ
মনিরুজ্জামান, প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রাথমিক
শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান, মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ আকতারুজ্জামান,
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহনাজ আক্তার, থানার উপ-পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল
মামুন, এনজিও প্রতিনিধি রুহুল আমিন, আলমগীর হোসেন, রবিউল আলম, এনায়েত
উল্লাহ মাসুম, বেলাল হোসেন শাকিল, লুৎফুর রহমান, সাংবাদিক শাহীন আলম,
আনিছুর রহমান, কাজী সেলিম, কাজী আহসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ।
কর্মশালায়
আরও বলা হয়, স্থানীয়ভাবে কতিপয় ফৌজধারী ও দেওয়ানী বিরোদেও সহজ ও দ্রুত
নিস্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। আবেদনকারীকে ইউনিয়ন
পরিষদ থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্র
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর দাখিল করতে হবে। আবেদনপত্র দাখিলের সময়
ফৌজধারী মামলার জন্য ১০ টাকা ও দেওয়ানী মামলার জন্য ২০ টাকা ফি দিতে হবে
এবং রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া অন্য কোন খরচ নেই। ফৌজধারী মামলার
ক্ষেত্রে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ৩০ দিন ও দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে ৬০ দিনের
মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হবে। গ্রাম আদালত উচ্চতর
আদালতের মামলার জট কমাতে সাহায্য করে।
লুৎফুন নাহার নামের এক নারী
বলেন, পরিচিত একজনের কাছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা পেতাম। দীর্ঘদিন আমার সাথে
টালবাহানা করেছিল। গ্রাম আদালতে ২০ টাকা খরচে মামলা করে কিছুদিন আগে পুরো
টাকা হাতে পেয়েছি।
কৃষক আসলাম মিয়া বলেন, হাই কোর্ট, জর্জ কোর্ট ও
ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্ট সম্পর্কে জানি। কিন্তু গ্রাম কোর্ট বা গ্রাম আদালত
সম্পর্কে জানি না। সমাজে ছোট ঝামেলা হলেই কোর্টে মামলার জন্য দৌঁড়াদুড়ি
করতে হয়। আপনার মাধ্যমে শুনেছি, ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ছোট
ঝামেলা কম খরচে ও সহজে সমাধান করা হয়। বিষয়টি সকলকে অবগত করতে পর্যাপ্ত
প্রচারণা দরকার। সরকারের উচিত, গ্রাম আদালত সম্পর্কে প্রচারণা বাড়ানো। এতে
করে তৃণমূলের অসহায় মানুষ সুফল পাবে। কমবে উচ্চ আদালতে মামলার জট।
এছাড়াও
কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ মাসে চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় গ্রাম আদালতে
৯৯৪টি মামলা দায়েরের পর ৭৫.৮৬ ভাগ নিস্পত্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে উচ্চ আদালত
থেকে প্রেরিত মামলা ৮৪টি। মামলাগুলোর মধ্যে ৯৮.০১ ভাগ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন
ও ১ কোটি ৩১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৯০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। মামলায় ৩৯৭
জন নারী আবেদনকারী ও বিচার প্রক্রিয়ায় ১৫ ভাগ নারী অংশগ্রহণ করেছে।
কর্মশালায়
গ্রাম আদালত সম্পর্কে প্রচারে সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থা সমূহের
প্রতিনিধি, সাংবাদিক, চেয়ারম্যান, মেম্বার, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের
দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ জানান সমন্বয়কারীগণ।