নিজস্ব
প্রতিবেদক।। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ কমানো এবং
কুমিল্লার উত্তরাঞ্চলের জনপদের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও
গতিশীল করতে নতুন বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী থেকে গোলাবাড়ি হয়ে আড়াইহাজার পর্যন্ত
একটি বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
কুমিল্লা-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত এ মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার
(১৭ মে) দুপুরে কুমিল্লার এলজিইডি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায়
আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়।
সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান।
উপস্থাপনায়
তিনি জানান, প্রস্তাবিত বিকল্প মহাসড়কটি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার
সুয়াগাজী থেকে শুরু হয়ে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড অতিক্রম করে গোলাবাড়ি হয়ে
গোমতী নদীর উত্তর পাড় ঘেঁষে বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর, দেবিদ্বার,
কোম্পানীগঞ্জ, মেটংঘর, শলপা, শ্রীকাইল, রামচন্দ্রপুর ও রূপসদী এলাকা
অতিক্রম করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গিয়ে মিলিত হবে।
এছাড়া
বাঞ্ছারামপুর থেকে প্রস্তাবিত মেঘনা সেতু হয়ে আড়াইহাজারের কাঞ্চন ব্রিজের
সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সড়কটি ঢাকার ৩০০ ফিট সড়কে গিয়ে যুক্ত হবে বলে
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাসড়কটি
বাস্তবায়ন হলে বর্তমানে দেশের অন্যতম ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর
বিদ্যমান চাপ অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি কুমিল্লার উত্তরাঞ্চলসহ আশপাশের
বিস্তীর্ণ এলাকার জনগণ রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত ও সহজ যোগাযোগের সুযোগ পাবে।
প্রস্তাবে
আরও উল্লেখ করা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর থেকে হোমনা হয়ে
বাঞ্ছারামপুর পর্যন্ত বিকল্প সড়কের সঙ্গেও একটি পৃথক সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে
তোলা হবে। এতে অঞ্চলভিত্তিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে।
এ
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লা উত্তরাঞ্চল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিস্তীর্ণ
জনপদ সরাসরি রাজধানী ও সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। ফলে এ
অঞ্চলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি
হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে প্রস্তাবিত কসবা ইপিজেডসহ
বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল এই মহাসড়ক নির্মাণের ফলে সরাসরি উপকৃত হবে বলে ধারণা
করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন কলকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং
সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে অর্থনৈতিক
সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেও প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা
হয়।
প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬
আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী
আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াশিম,
স্থানীয় সরকার বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম, দক্ষিণ
জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহিদ চৌধুরী, লালমাই উপজেলা বিএনপির
সাধারণ সম্পাদক মীর ইউসুফ আলী পিন্টুসহ বিভিন্ন উপজেলার সহকারী প্রকৌশলীরা।
