কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়ন এবং কুমিল্লায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে) কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষীপুর মাঠে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন- বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিলে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। কারণ বিএনপি জনগণের দল। দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করেছে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, প্রত্যেক পরিবারের হাতে ধীরে ধীরে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাব, কৃষক কার্ড দেব এবং মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করব। আমরা ইতিমধ্যে সেই কাজগুলো শুরু করেছি। বাংলাদেশের প্রায় ৬০ হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কৃষক ভাইদের হাতে কৃষক কার্ড দেওয়ার কাজ অল্প করে হলেও শুরু করা হয়েছে।
সরকার প্রধান বলেন,আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছিলাম। একই সময়ে স্বাধীন হওয়া এশিয়ার অন্য দেশগুলো আজ আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমরা সেভাবে এগিয়ে যেতে পারিনি। কারণ, আমরা এক বিরাট স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিলাম। ১৯৭১ সালে যেভাবে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা হয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে দেশের মানুষ এবার স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। তবে শুধু দেশ স্বাধীন করলেই হবে না, এখন প্রধান কাজ হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।দেশের জনগণকে সাথে নিয়েই আমরা দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়কপথে আসতে আসতে বিভিন্ন স্থানে আমরা আপনাদের দাবি দাওয়ার কথা শুনছিলাম। সবাই স্লোগান দিচ্ছিল কুমিল্লা বিভাগ চাই। এই দাবিটি যদি জনগণের দাবি হয়ে থাকে, ইনশাল্লাহ সেটির বাস্তবায়ন হবে। এছাড়া কুমিল্লা জেলাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে অনেক শাকসবজি উৎপাদন হয় এবং এই এলাকার শাসকসবজি বিদেশেও রপ্তানি হয়। সে বিবেচনায় আপনাদের আরো একটি দাবি হচ্ছে- কৃষি বিশ^বিদ্যালয়। আমি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রীর সাথে কথা বলবো এবং সবকিছু বিবেচনা করে যত দ্রুত সম্ভব এই বিষয়টি আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো- ইনশাল্লাহ। কিন্তু কথা একটা আছে- ধৈর্য্য ধরতে হবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া এমপি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হুদা, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল হক ভূইয়া স্বপন, বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বরুড়ার পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
