কুমিল্লার
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের অভিযোগ
পাওয়া গেছে। গত ৪ মে অর্ধশতাধিক রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া হয়
একাধিক ভুক্তভোগী রোগী অভিযোগ করেন। ওই ওষুধ সেবন করে তারা অনেকে অসুস্থ
হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শুক্রবার
(১৫ মে) সকালে অসুস্থ একাধিক রোগী অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের ফার্মেসি
থেকে তাদের এমন ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে যার মেয়াদ কয়েক মাস আগেই শেষ হয়ে
গেছে। ঘটনা তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেছেন তাঁরা।
জানা
গেছে, গত ৪ মে শফিকুল ইসলাম নামে এক রোগী উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যার কারণে
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহি: বিভাগে চিকিৎসা নিতে যান। পরে
২০৩ নম্বর কক্ষের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে “এ্যামডোক্যাল” ট্যাবলেট
প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন। প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতালের ফার্মেসিতে গেলে
তাকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই মেয়াদোত্তীর্ণ “এ্যামডোক্যাল”
ট্যাবলেটটি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, “উচ্চ রক্তচাপের
চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলাম। চিকিৎসক ওষুধ লিখে দিলে কমপ্লেক্সের
ফার্মেসি থেকে তা নিয়ে আসি। ওষুধ খাওয়ার চারদিন পর দেখি ওষুধের মেয়াদ
ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়ে গেছে। একটি সরকারি হাসপাতালে এভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ
ওষুধ দেওয়া খুবই উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, একই ধরণের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ
ওইদিন অন্তত অর্ধশতাধিক রোগীকেও দেওয়া হয়। একই অভিযোগ করেন দেবিদ্বার পৌর
এলাকার মাছুয়াবাদ ডোন এলাকার ট্রাক্টর চালক বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, আমি
নিয়মিত প্রেশারের ওষুধ খেতে হয়। ওষুধের গায়ে মেয়াদ আছে কিনা তা দেখি নাই,
ওষুধ খাওয়ার পর দেখি শরীর আরও খারাপ হয় যায়। পরে সকালে হাসপাতালে ওষুধগুলো
নিয়ে আসার পর জানতে পারি ওষুধের মেয়াদ নাকি তিন মাস আগেই শেষ। এমন ওষুধ কেন
তারা আমাকে দিল ? তাদের ভুলের কারণে আমি তো মারাও যাইতে পারতাম।
এ
বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা
(আরএমও) ডা. মো. কবির হোসেন বলেন, কমপ্লেক্সের স্টোর থেকে ওষুধ নামানোর
পূর্বে চেক দেওয়া হয়, তারপরও ভুল হয়ে যেতে পারে। কেন এমন হয়েছে স্টোরকিপার ও
ফার্মেসীতে আলাপ করে জানতে হবে। মেডিক্যাল এরর ‘চিকিৎসাজনিত ত্রুটি’ সারা
পৃথিবীতে এগুলো কমবেশি হয়ে থাকে। আমরা ফেরেশতা হলে ভুল হতো না, আমরা মানুষ,
মানুষের ক্ষেত্রে ভুল হতে পারে।
