দেশে
স্থাপিত মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণের মাধ্যমে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সে
বিষয়ে বুয়েটের মাধ্যমে গবেষণা করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বিটিআরসিকে নির্দেশ
দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালত বুয়েটের প্রফেসর কামরুল হাসানের রিপোর্ট
অনুসারে বাংলাদেশে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ থেকে কী ধরনের স্বাস্থ্য
ঝুঁকি আছে, তা নির্ণয়ের জন্য তার প্রস্তাবিত মত অনুসারে বিটিআরসিকে একটি
প্রজেক্টের মাধ্যমে গবেষণা করে প্রতিবেদন তৈরি করতে বলেছেন। আদালতে এই
প্রতিবেদন আগামী ৬ মাসের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে
শুনানি নিয়ে বুধবার (১৩ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং
বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
মোবাইল
টাওয়ারের বিকিরণের মাধ্যমে মানুষ, পশু, পাখি, গাছপালা ইত্যাদির ক্ষতি হচ্ছে
মর্মে মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশিত হলে এ সম্পর্কিত রিপোর্ট সংযোজন করে
জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট দায়ের করে।
২০১৯
সালের ২৫ এপ্রিল হাইকোর্ট শুনানি শেষে রুল যথাযথ করে রায় দেন। আদালত
বিটিআরসিকে ফিল্ড সার্ভে করে বর্তমান মাত্রা কতটুকু কমানো যায় সে ব্যাপারে
ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালত রায়ে জনসমাগম স্থলে অর্থাৎ স্কুল,
কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত পাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতে এ ধরনের টাওয়ার
স্থাপন করা না হয়, গাইডলাইনে তা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে।
আদালতের
রায়ের পরে বিটিআরসি কর্তৃক একটি কমিটি করে একইভাবে আগের মাত্রা বহাল রাখার
প্রতিবেদন দাখিল করে। জবাবে এইচআরপিবির পক্ষে উক্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে
আপত্তি তুলে বলা হয় পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে উক্ত বিকিরণের মাত্রা
১০ ভাগের এক ভাগ করার যে ব্যবস্থা প্রচলিত আছে, সে অনুসারে বাংলাদেশেও
মোবাইল টাওয়ারগুলোতে মাত্রা কমানোর আবেদন জানানো হয়।
এ ব্যাপারে বুয়েটের
বিশেষজ্ঞদের মতামত শোনার আবেদন জানান হয়। পরে ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি
আদালত এক আদেশে বিশেষজ্ঞ মতামত শুনতে আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনা
অনুসারে বুয়েটের প্রফেসর কামরুল হাসান আদালতে এসে বক্তব্য রাখেন এবং ২০২৪
সালের ৩০ এপ্রিল একটি লিখিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। যেখানে তিনি
মোবাইল টাওয়ার থেকে রেডিয়েশনের মাত্রা কমানোর সুপারিশ করেন, একই সঙ্গে এই
ধরনের মাত্রায় কি পরিমাণ ক্ষতি করছে সে ব্যাপারে বাংলাদেশে একটি গবেষণার
প্রস্তাব করেন।
