কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল
(আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য
ব্যতিক্রমধর্মী ওরিয়েন্টেশন, একাডেমিক গাইডলাইন, কাউন্সিলিং ও
মোটিভেশনভিত্তিক ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির ৮ম দিনে গণিত এবং পরিসংখ্যান
বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
আজ বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে ৮ম দিনের কর্মসূচির উদ্বোধন হয়।
আইকিউএসি'র
পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হায়দার আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম,
পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জে. এম. আদিব সালমান চৌধুরী এবং
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. নাহিদা বেগম। রিসোর্স পারসন
হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের
এবং পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী।
অনুষ্ঠান মোট
পাঁচটি সেশনে অনুষ্ঠিত হয়। সেগুলো ছিল -কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও
নিয়মকানুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ওবিই সম্মত একাডেমিক
প্রোগ্রামের কাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দায়িত্ব,
শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং এআই যুগের উপযোগী
কর্মসংস্থানযোগ্য ও উদ্ভাবনী গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনা।
প্রধান
অতিথি মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, "জাতি তৈরির সূচনা
হয় অরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে। তাই আপনাকেও আমরা নানা কল্যাণমুখী দিকনির্দেশনা
প্রদানের মাধ্যমে গঠন করার চেষ্টা করছি। আপনি মেধাবী মানে আপনাকে সকল
ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রাখতে হবে। শুধুমাত্র প্রশ্ন ও উত্তরের মধ্যে
সীমাবদ্ধ থাকার কারনে আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় বহুগুনে পিছিয়ে। তাই
গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আমাদের প্রযুক্তি নির্ভর চিন্তার
মাধ্যমে বিশ্বব্যভপী নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে হবে। নিজেকে আদর্শ
মানুষ হিসেবে গঠন করে দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য নিজেকে তৈরী করতে হবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, "আপনারা একটি বড় ভর্তি যুদ্ধ
পেরিয়ে আরেকটি যুদ্ধ ক্ষেত্রে নেমেছেন। এই যুদ্ধেও আপনাদেরকে যোগ্যতার
প্রমাণ দিতে হবে। শুধু সার্টিফিকেট অর্জনই আপনার জীবনের মূল লক্ষ্য বানাবেন
না। সব ক্ষেত্রে একজন অলরাউন্ডারের ভুমিকায় নিজেকে রাখার চেষ্টা করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সবে মাত্র শুরু করেছেন, তাই সব সময় গভীরভাবে লক্ষ্য
রাখবেন বন্ধু নির্বাচনে। কারন একজন ভালো বন্ধুই আপনার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে
প্রতিফলিত করবে। সব সময় মনে রাখবেন, এই চার বছরের যুদ্ধক্ষেত্রই নির্ধাবন
করবে আপনার পরবর্তী জীবনযাত্রা কেমন হবে। তাই এই চার বছর কীভাবে আপনার
জীবনকে কাজে লাগাবেন সেই সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।"
তিনি আরও বলেন,
বাবা-মায়ের সাথে নিয়মিত যোগযোগ রাখবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে
সচেতন থাকা জরুরি। একই সঙ্গে মাদকের মতো মারাত্মক ব্যাধি থেকে দূরে থাকতে
হবে। এছাড়াও র্যাগিং একটি গুরুতর অপরাধ; গত বছর এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী
বহিষ্কৃত হয়েছে। তাই এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখতে
হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি আইকিউএসি'র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর
রহমান বলেন, “'বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, বিশ্ব র্যাংকিংয়ে অবস্থান এবং
গ্র্যাজুয়েটদের সক্ষমতা সবকিছুরই নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে। সেই মানদণ্ডে
নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এই প্রত্যাশা নিয়েই আমাদের
অগ্রযাত্রা। আইকিউএসির প্রধান কাজ হলো মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের
প্রক্রিয়াকে সহজতর করা। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কয়েকটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট
প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। আমরা চাই আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা বাংলা এবং ইংরেজি
অন্তত দুটি ভাষায় দক্ষ হোক। সেজন্য আমরা স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের
আওতায় বিভিন্ন ট্রেনিং প্রোগ্রামের ও সমন্বয় করবো। আমরা চাই আমাদের
ছাত্র-ছাত্রীরা ডিজিটালি উন্নত হোক, আইটি বেজড কম্পিটেন্সি ডেভেলপ করার
পাশাপাশি লিডারশিপ, ম্যানেজমেন্ট এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা তৈরি করুক।'
উল্লেখ্য, গত ৩ মে থেকে ১০ দিনব্যাপী এই একাডেমিক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান শুরু হয়।
