নিজস্ব প্রতিবেদক।। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় উদযাপিত হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। শনিবার সকালে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিশ্বকবির ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সকালে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অতিথিরা। পরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালেক, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
পরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” আমাদের জাতীয় সংগীত। যে কবিগুরু বাঙালি কবি হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধ হয়েছেন, তিনি বাংলা ও বাঙালির কবি। কবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে আজকের এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা অনেক অগ্রগামী। শিক্ষা, দীক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে কুমিল্লা পথিকৃত। তবে এ ধরনের অনুষ্ঠানে জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে। আজকের এই অনুষ্ঠানে এসে আমি হতবাক উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত অতিথি, আয়োজন ও নির্ধারিত শ্রোতার বাইরে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। কুমিল্লা ধীরে ধীরে সব কিছু হারাতে বসেছে, এর সঙ্গে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যও। তাই সবাইকে একসঙ্গে কুমিল্লাকে বাঁচাতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে আজকের আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও লোকমুখী ও জনসম্পৃক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় আগামী প্রজন্মের কাছে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হারিয়ে যেতে বসবেন বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম, দর্শন, মানবতাবাদ ও বাংলা সংস্কৃতিতে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
