কুমিল্লার
বিভিন্ন এলাকায় র্যাব-১১ এর ধারাবাহিক অভিযানে মাদক, হত্যা ও চুরি মামলার
মোট ৮ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা,
গাঁজা ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১১ জানায়, গত ৩ মে ২০২৬
সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার চকবাজার এলাকায় মাদকবিরোধী
বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ভূইয়া (৫০) নামে এক মাদক
ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ১,৯৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট
উদ্ধার করা হয়।
একই দিন রাতে পৃথক অভিযানে কোতয়ালী মডেল থানার ফৌজদারী ও
কান্দিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি মামলার দুই আসামী—শফিউল বাশার ওরফে
সবুজ (২৯) এবং শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক (২৭)—কে গ্রেফতার করা হয়।
আরেকটি অভিযানে বুড়িচং থানার নিমসার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার আসামী টিপু (৩২) কে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর
৪ মে ২০২৬ রাতে সদর দক্ষিণ মডেল থানার উত্তর রামপুর এলাকায় মাদকবিরোধী
অভিযানে চারজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—মোঃ সোহেল শেখ
(৩৯), মোঃ হাসানুর রহমান শেখ (৩৭), মোঃ আফজাল হোসেন (৪৮) এবং মোঃ রাহুল শেখ
(২১)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩০ কেজি গাঁজা, ২ বোতল বিদেশি মদ এবং মাদক
পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়,
গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও মদ
সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছিল।
এদিকে
র্যাব-১১ এর সামগ্রিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে এখন
পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ৪১৫ জন চাঞ্চল্যকর অপরাধী, ৪ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী,
১৫ জন আরসা সদস্য, ২ জন জঙ্গি, ২২১ জন হত্যা মামলার আসামী, ১৩৮ জন ধর্ষণ
মামলার আসামী এবং ৫৫ জন অস্ত্র মামলার আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া
১৮০টি অস্ত্র ও ১,৫৪২ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী
অভিযানে ৬৭২ জনের বেশি মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১৮ জন
অপহরণকারী গ্রেফতার এবং ১৩৮ জন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ছিনতাইকারী
ও ডাকাত ১৪৭ জন, জেল পলাতক ৪০ জন, প্রতারণা মামলার ১৮ জনসহ মোট প্রায় ৯১২
জন অন্যান্য অপরাধীকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
র্যাব
জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এসব অভিযান
পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
