বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২৬
৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
‘দিবস পালনে পেট ভরবে না’ শ্রমিকের চোখে মে দিবস
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৪৯ এএম আপডেট: ০১.০৫.২০২৬ ১:১০ এএম |


  ‘দিবস পালনে  পেট ভরবে না’ শ্রমিকের চোখে মে দিবসনিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ ১ মে, মহান মে দিবস। শ্রম অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী দিনটি পালিত হলেও কুমিল্লার স্টেশন রোডের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানকার কর্মব্যস্ত ওয়ার্কশপগুলোতে কল-কারখানার সাইরেন আর হাতুড়ির শব্দের নিচে চাপা পড়ে আছে মে দিবসের তাৎপর্য। হাজার হাজার শ্রমিকের কাছে মে দিবস মানে কেবল একটি ‘ছুটির দিন’, যে দিন কাজ না করলে পরিবারের চুলা জ্বলবে না।
সরেজমিনে স্টেশন রোডের কর্মব্যস্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জীবন-জীবিকার তাগিদে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছেন শ্রমিকরা। অধিকাংশ শ্রমিকের মাঝেই দিবসটি নিয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তাদের কাছে আন্দোলনের চেয়েও দিন শেষে মজুরি নিয়ে ঘরে ফেরা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই এলাকার একজন সফল উদ্যোক্তা ‘গাউছিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস’-এর স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন। তার জীবনের গল্পটি অনুপ্রেরণার। ১৯৯৮ সালে মাত্র দুজন সহকারী এবং সামান্য পুঁজি নিয়ে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেছিলেন। আজ দীর্ঘ ২৯ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি একজন সফল ও স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা। তার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কাজ করছেন প্রায় ১০০ জন শ্রমিক। দক্ষতাভেদে তাদের মাসিক বেতন ৬ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে এই ১০০টি পরিবারের অন্নসংস্থানের প্রধান ভরসাস্থল গাউছিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং।
মে দিবস প্রসঙ্গে আনোয়ার হোসেন বলেন, "মে দিবস কী বা কেন পালন করা হয়, তা নিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের কোনো ধারণা নেই। সরকারিভাবে ছুটি বা দিবস পালিত হলেও আমাদের মতো ক্ষুদ্র শিল্পে এর প্রভাব নেই। আমাদের শ্রমিকদের কাছে একদিন কাজ বন্ধ রাখা মানে পরের দিন বাজার করতে কষ্ট হওয়া। দিবস পালন করে তো আর পেট ভরবে না, আমাদের প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন কর্মসংস্থান।"
প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র মেকানিক একই সুরে কথা বললেন। তিনি জানান, "শ্রমিক দিবস নিয়ে আমাদের ভাবনা কম। আমরা চাই নিয়মিত কাজ আর সঠিক সময়ে মজুরি। কাজ না করলে আমাদের সংসার চলে না। অন্য এক তরুণ শ্রমিক বলেন, মালিক আমাদের নিয়মিত বেতন দেন বলেই আজ আমরা টিকে আছি। আমাদের কাছে কর্মসংস্থানই সব।
দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে গাউছিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস অত্যন্ত সুনামের সাথে প্রাইভেটকার, ভ্যান, ট্রাক ও ট্রাক্টরের ইঞ্জিন মেরামতের পাশাপাশি বিভিন্ন কল-কারখানার জটিল যন্ত্রপাতি তৈরি ও মেরামত করে আসছে। কুমিল্লার স্থানীয় অর্থনীতিতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আনোয়ার হোসেনের মতো উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কুমিল্লার স্টেশন রোডের এই এলাকাটি এখন বিশাল এক শ্রমবাজারে পরিণত হয়েছে। আনোয়ার হোসেনের এই দীর্ঘ পথচলা জেলার নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনন্য উদাহরণ। তবে এই বিশাল শ্রমিক গোষ্ঠীর পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লা ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত
কুমিল্লায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তা
কুমিল্লায় বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার
তিন বছর স্ট্যান্ডের ইজারা নেই, বছরে কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মানসিক প্রতিবন্ধি রোগী নিখোঁজ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি
ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর বৈঠক
জলাবদ্ধতা নিরসনে কুমিল্লা নগরীর খাল পরিদর্শনে প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু
কুমিল্লা ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত
কুমিল্লার তিতাসে হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২